ভারত থেকে আসবে পেঁয়াজ

ঝিনাইদহে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমছে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ২১:১৪

ইত্তেফাক ডেস্ক

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা (ইমপোর্ট পারমিট) নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। তাদের অনুমতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর কাজ শুরু করেছে। এদিকে ঝিনাইদহে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দফায় দফায় দাম কমে প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর: 

হাকিমপুর (দিনাজপুর) : হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কোয়ারেন্টাইন প্যাথলজিস্ট মাহমুদুল হাসান জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য নতুন করে (ইমপোর্ট পারমিট) অনলাইনে আবেদন শুরু করেছেন। রবিবার পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমদানির জন্য অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে এই অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে। গত পাঁচ মাস ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি দেওয়া বন্ধ ছিল।

বন্দরের প্রসিদ্ধ পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, আজ সোমবার নিজেই ভারতের মহারাষ্ট্রে গিয়ে পেঁয়াজের বাস্তব প্রেক্ষাপট দেখে আমদানির জন্য আবেদন করব। তবে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করে আনতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই পর্যন্ত ভোক্তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অপর আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, ভারত গত পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখে। এর ফলে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আশার খবর হচ্ছে যে, ভারত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে পারব। এরপর বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে এমন খবরে হিলি স্থলবন্দরের হাটবাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

ঝিনাইদহ : পশ্চিমের জেলাগুলোর হাটবাজারে নতুন ওঠা হালি পেঁয়াজের আমদানি বাড়ার পর দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। দফায় দফায় দাম কমে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় চার দিনের ব্যবধানে পাইকারি মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১ হাজার টাকা কমেছে। মঙ্গলবার এই হাটে পাইকারি প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অর্থাত্ প্রতি কেজি ৫৫ টাকা। শনিবার পাইকারি প্রতি কেজি ২৫ থেকে সাড়ে ৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। শৈলকুপা উপজেলার খালফলিয়া গ্রামের চাষি নন্দ বিশ্বাস বলেন, এবার সাড়ে চার বিঘাতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শনিবার পাইকারি প্রতি কেজি সাড়ে ৩১ টাকা দরে বিক্রি করেন। অপর চাষি রবি বিশ্বাস বলেন, তিনি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। ঐ হাটের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, হাটে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। দামও কমে গেছে। আগামীতে আরো দাম কমবে। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, আনন্দবাস হাটে নতুন ওঠা নিম্নমানের সুখসাগর পেঁয়াজ পাইকারি ২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ অলি জানান, পেঁয়াজ খেতে কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ নেই। বাম্পার ফলন আশা করছে চাষি। তিনি জানান, বাজারে নতুন ওঠা পেঁয়াজের আমদানি বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।