আমেরিকা-তালেবান শান্তিচুক্তি :অপেক্ষার ১৪ মাস

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

সংঘর্ষ, রক্তক্ষয় এবং অশান্তির প্রায় দুই দশক পার হইয়া গিয়াছে। অতঃপর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করিল আমেরিকা ও তালেবান। তবে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হইল আফগানিস্তানের মাটিতে নহে, কাতারের রাজধানী দোহায়। শান্তিচুক্তি হইল বটে, ইহা যেন আমেরিকার নিকট এনাফ ইজ এনাফ দশা। সোভিয়েত ইউনিয়নকে তাড়াইতে আমেরিকার মদতে যেই তালেবানি শক্তির বিকাশ ঘটিয়াছিল, একসময় সেই শক্তিই বড়ো মাথাব্যথার কারণ হইয়া উঠে আমেরিকার জন্য। ঘটে এই শতাব্দীর সবচাইতে আলোচিত নয়-এগারোর ঘটনা। তাহার পরই যেন আমূল পরিবর্তন ঘটিয়া যায় আমেরিকা তথা বিশ্বনিরাপত্তা-ব্যবস্থায়।

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে আমরা যেমন দেখিয়াছি শান্তিচুক্তি আসিয়াছে একপর্যায়ে বটে, তবে তাহা অনেক রক্ত ও সম্পদ ক্ষয়ের পর। তালেবানের সহিত আমেরিকার এই শান্তিচুক্তি উভয় তরফেরই আকাঙ্ক্ষিত ছিল। ইতিপূর্বে তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অনেক দূর অগ্রসর হইলেও গত বত্সর তালেবানি হামলায় এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হইলে অবিলম্বে চুক্তি বাতিল বলিয়া ঘোষণা করা হয়। সেইখান হইতে গত শনিবার দোহার চুক্তি স্বাক্ষরের মঞ্চ তৈরি করিতে এরই মধ্যে অনেক আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রয়োজন পড়িয়াছে বটে। এই দিনও চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যোদ্ধাদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ ছিল তালেবানি শীর্ষ নেতৃত্বের, ‘দেশের শান্তির কথা ভাবিয়া সকল ধরনের হামলা হইতে বিরত থাকুন।’ পরে তালেবানি এক শীর্ষ নেতা বলিয়াছেন, ‘আমরা আশা করিতেছি, দরকষাকষির সময় আমেরিকা যেই প্রতিশ্রুতি দিয়াছে, তাহা মানিয়া চলিবে।’ প্রতিশ্রুতি মানিয়া চলিবার কথা অবশ্য তালেবানকেও মনে করাইয়া দিয়াছে আমেরিকা। আল-কায়েদার সহিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার ব্যাপারে কথা দিয়াছে তালেবান। সেই ওয়াদা যেন রক্ষা করে, তাহার উপর জোর দিয়াছে আমেরিকাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বলিয়াছিলেন, যদি তালেবান ও আফগান সরকার তাহাদের কথা রাখে, তাহা হইলে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করিয়া সেনাবাহিনী ফিরাইবার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হইবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চুক্তি সূক্ষ্ম সুতার উপর দিয়া হাঁটিবার মতো।

এক তালেবানি নেতা জানাইয়াছেন, তালিবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকার উপর দিয়া বিদেশি সামরিক কপ্টারে নিয়মিত নজরদারি ‘অত্যন্ত বিরক্তিকর ও উসকানিমূলক।’ এই বিরক্তিকর ব্যাপারটির অবসান এত সহজে হইবে কি না তাহা অনেক ‘যদি’র উপর নির্ভর করিতেছে। এই জন্য এই চুক্তি অনেকের নিকট স্রেফ শুরুর কথা। আগামী পথ মোটেও সহজ হইবে না। আপাতত যাহা স্থির হইয়াছে তাহাতে তালেবান চুক্তির শর্ত মানিলে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে ঐ দেশ হইতে আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনী তাহাদের সমস্ত সেনা সরাইয়া লইবে। কিন্তু যদি কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ঐ চুক্তি অর্থহীন হইয়া যাইতে সময় লাগিবে না। তালেবানের পাশাপাশি অন্যান্য সশস্ত্র উপজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গেও আলোচনা চলিবে। আপাতত ১৩ হাজার হইতে কমাইয়া ৮ হাজার ৬০০ মার্কিন বাহিনী রাখা হইবে আফগানিস্তানে। দেখা যাউক, কী ঘটে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে।