অপ্রতিরোধ্য বায়ুদূষণ, করণীয় কী?

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৭

আব্দুল্লাহ মাহমুদ

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তালিকায় গতবারের মতো এবারও শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাও দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে গতবারের মতোই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিশ্বের বায়ুর মান প্রতিবেদন-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে বায়ুদূষণের এমন চিত্র বেশ হতাশাজনক। বিশ্বের অনেক অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ যেখানে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে, সেখানে আমরা  ২০১৮ সালের ন্যায় এবারও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি, আগামীতে উন্নত দেশে রূপান্তর হওয়াটা আমাদের স্বপ্ন। কিন্তু পরিবেশগত দিক বিবেচনায় আমরা আজও অনুন্নত পর্যায়েই থেকে গেছি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত অবস্থা এমন হওয়ায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকে। এমন বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারের ফলে নানা ভাইরাস সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকিও থেকেই যায়। বায়ুদূষণের সৃষ্টি ও স্রষ্টা আমরা নিজেরাই। ব্যক্তিগত অসতর্কতা, সামাজিক দায়িত্বহীনতা, অপরিকল্পিতভাবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও পুরাতন অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি গাছ কেটে বন উজার করে ফেলা, অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপনও বায়ুদূষণের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ঢাকায় বায়ুদূষণের জন্য দায়ী উত্সগুলোর মধ্যে ইটভাটার অবদান ৫৮ শতাংশ। এরপরই রয়েছে নির্মাণ ও মেরামত কাজের সঙ্গে আসা ধুলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। অন্যদিকে শীতকালে আমাদের দেশের আবহাওয়া বেশি খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন যাবত্ বৃষ্টি না হওয়ায় ধুলাবালি বাতাসের সঙ্গে মিশে বায়ু দূষিত করে। রাজধানীতে ব্যাপক জনসংখ্যার ঘনত্ব, অতিরিক্ত যানবাহন ও যানজটের কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমনভাবে চলতে থাকলে পরিবেশগত সংকট, পরিবেশে গাছের সংখ্যা কমে যাবে সঙ্গে সঙ্গে  বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি বায়ুতে অতি ক্ষতিকর সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম-২.৫ এর পরিমাণ বেড়ে গেলে তা দেশের জন্য বড়োই অমঙ্গলজনক।

এ সকল সমস্যার সমাধান অতিদ্রুত করা না গেলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই সকলকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় কার্যকরী পদক্ষেপ প্রহণ করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে হতাশ না হয়ে বরং উত্সাহিত হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাড়ি, কারখানা গাড়ি হতে ধোঁয়া নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। উত্সব অনুষ্ঠানে আতশবাজির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি এ বিষয়ে অন্যকেও উত্সাহিত করতে হবে। যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণকার্যে পরিবেশের ক্ষতি না করে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ ও বায়ুদূষণ হয় এমন যে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সামাজিক সতর্কতার তাগিদ প্রয়োজন। সবাইকে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত সকল আইন মেনে চলার কথা বলতে হবে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনও রয়েছে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ