সেবার মান না বাড়িয়ে পানির ২৫ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এই দাম। শুধু পানি নয়, পানির সঙ্গে যাদের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন রয়েছে তাদেরও গুনতে হবে সমপরিমাণ বাড়তি বিল। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পরপরই পানির দাম বৃদ্ধি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। গত ১২ বছরে মোট ১৩ বার পানির দাম বেড়েছে। ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে দুই দফা পানির দাম বাড়ায় ঢাকা ওয়াসা। এর আগে গত জুলাইতে ৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর পানির দাম একবার করে বেড়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে দাম বেড়েছিল দুই বার।
দাম বাড়ানোর কারণে আগামী এপ্রিল থেকে আবাসিকে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম হবে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। ওয়াসার আইন অনুযায়ী, ওয়াসার বোর্ড প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে এবার পানির দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়াতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয় ওয়াসা। তবে মন্ত্রণালয় আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে ২৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর বিষয়ে অনুমোদন দেয়।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুরাইন, দনিয়া, শ্যামপুর, মোহাম্মদপুর, কদমতলী, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, মীরহাজীরবাগ, পল্টনসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানি ফুটানো ছাড়া পান করা সম্ভব নয়। এসব এলাকার মানুষ পানি ফুটিয়ে তারপর খাওয়ার উপযোগী করে তুলে। এর পরেও এসব এলাকায় পানির মান উন্নয়নে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ওয়াসা। টিআইবির এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে পান করে। অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকরা বিভিন্ন সময়ে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা থাকার অভিযোগ করে আসছে। এদিকে পানির দাম বাড়ানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা তামিম হোসেন বলেন, পানি থেকে গন্ধ আসে। সেখানে ২৫ শতাংশ পানির দাম বাড়ানোর কোনো মানেই হয় না। ভোক্তা অধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াসার বেশিরভাগ এলাকার পানি অনিরাপদ। ভোক্তা টাকা দিয়ে অনিরাপদ পানি ক্রয় করছে। তার ওপর ভোক্তার স্বার্থের কথা চিন্তা না করে নিজেদের সুবিধার জন্য এভাবে স্বেচ্ছাচারিতামূলক দাম বাড়ানো কোনোভাবেই মানা যায় না। এটি ভোক্তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, পানির দাম না বাড়িয়ে বিকল্প কিছু আমাদের ছিল না। দাম না বাড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারবে না। দিন দিন এভাবে চললে প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হয়ে যাবে। অন্য কোনো জায়গা থেকে ঋণ করতে হবে। আর সামান্য প্রেসার নিলে মানুষ বৃহত্তর অর্থে উপকৃতই হবে।
