ফ্যা শ ন : এ ই স ম য়ে ক্যাজুয়াল শার্ট

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ১৮:২৭

l ফয়জুল আল আমীন

 

ব্যস্ত এই শহরে ব্যস্ত জীবনে প্রয়োজনের হাতছানিতে কখনো হুটহাট করেই বেরিয়ে পরতে হয়। অফিস, ক্লাস, আড্ডা—আরো কত কত ব্যস্ততা রয়েছে জীবনে। সেইসঙ্গে রয়েছে গরম, ঘাম, ক্লান্তি, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি। আর এমন পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতেই যেন এই ক্যাজুয়াল শার্টের আবির্ভাব। রং, নকশা, ডিজাইন, কাপড়ের বাহারি ধরন, প্রিন্টের ছাপ, একরঙা থেকে শুরু করে হাল্কা থেকে গাঢ়, নানান বর্ণিল রঙের মনকারা প্যাটার্ন ও কাটিংয়ের প্রিন্টেড ক্যাজুয়াল শার্টের প্রচলন এখন সর্বত্র।

অনেকেই বলেন, সবসময় ফিটফাট থাকলে কি-না নিজেকে পুতুল পুতুল মনে হয়। আর আমি বলতে চাই—কেমন যেনো রোবট রোবট লাগে। অনেক তরুণ-তরুণীরই কথা, কতক্ষণ আর পুরোদস্তুর ফিট থাকা যায়। আর এই কথাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশেই নয়, পশ্চিমা দেশের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও কথা।

মূলত ক্যাজুয়ালের প্রথম দিকের প্রচলন শুরু হয় গায়িকা সেলেনা গমেজ ও জাস্টিন বিবারের হাত ধরে। পরে তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে চারদিকে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীকালে ড্রেস ডিজাইনারদের হাত ধরে এই ক্যাজুয়াল ধারাটি একের পর এক পেতে থাকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নতুনত্ব। বাড়তে থাকে এর গ্রহণযোগ্যতা। আর তাই তো যখন তখন ক্যাজুয়াল ড্রেস পরে বের হওয়া যায় যে কোথাও। হোক সেটা কলেজ, ইউনিভার্সিটি, আড্ডা, পার্টি কিংবা অফিস। সময় তো লাগেই না, মিশে যাওয়া যায় যে কোনো জায়গায়, যে কারো সঙ্গে যে কোনো পরিবেশে। আর টপ টু বটম দুটি পোশাকই যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে কিন্তু ক্যাজুয়াল পোশাকেই বেশ স্মার্ট লাগে। ক্যাজুয়াল শার্টের সেই ফেব্রিক যদি সুতি আর মোলায়েম হয়, তবে তো কথাই নেই; গরমেও থাকা যায় নিশ্চিন্ত। যারা এক সময়ে ফরমাল ও বিজনেস ধারার পোশাক পছন্দ করতেন—এক কথায়, যারা খুব পরিপাটি থাকতেন, তারা এই ক্যাজুয়ালকে নাক সিটকাতেন—সময়ের স্রোতে এখন তারাও এই ক্যাজুয়াল ধারার পোশাক পরে থাকেন। সহজ ও ঝামেলাহীন আর যে কোনো পরিবেশেই মানিয়ে যায় বলে বর্তমানে সব বয়সীরাই  ক্যাজুয়াল শার্টের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে ক্যাজুয়ালের আছে কিছু ধরন। যেমন— ক্যাজুয়াল, স্মার্ট ক্যাজুয়াল, স্ট্রিট ক্যাজুয়াল, কেয়ারলেস ক্যাজুয়াল ও বিজনেস ক্যাজুয়াল। যখন আপনি ক্যাজুয়াল ধারার পোশাকে নিজেকে সাজাবেন, তখন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন আপনার শার্টের সাথে প্যান্ট ও জুতা মানানসই হয়।

ক্যাজুয়াল শার্টের ফেব্রিক হিসেবে ব্যবহার হয় সুতি, খাদি, মিক্স সুতি, লিলেন, ভয়েল। এছাড়াও গরমে আরো স্বস্তি ও আরাম পেতে সুতির সাথে লিলেন ও ভিসকোস কাপড়ের মিশ্রণে আলাদা বিশেষত্বের এক ধরনের ফেব্রিক দিয়েও ক্যাজুয়াল শার্ট তৈরি করা হয়।

ফ্যাশন হাউজ ইজি’র স্বত্তাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘তরুণরা এখন অনেক সচেতন আর ফ্যাশনপ্রেমী। তাদের মন, দুনিয়া—সবকিছুও যেন রঙিন। আর এই তরুণদের কথা চিন্তায় রেখেই ইজি বানিয়ে থাকে নিত্য নতুন রঙের কাপড়ের মৌসুম ভিত্তিক ও নানান নকশাদার ক্যাজুয়াল শার্ট।’

চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন ইজি, দর্জি বাড়ি, এক্সট্যাসি, ঙ, আরটিস্টি, ক্যাটস আই, মেনজ ক্লাব, ওয়েসটেক্স সহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতে। আর দামেরও আছে রকম ফের। আপনার পছন্দ ও সাধ্যের সন্নিবেশে কিনে নিতে পারেন একটি স্মার্ট লুকিং ক্যাজুয়াল শার্ট। ফেব্রিকের মান, কাজ ও ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে ব্র্যান্ড ভেদে ৪৫০ থেকে শুরু করে ১৫৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্য রয়েছে এসব শার্টের।       

 

                 মডেল      আদর, পলাশ ও অনিক

               পোশাক     ইজি

               ছবি      অরণ্য জিয়া