স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে
বিপিএলের সময়ই লিটন কথাটা বলেছিলেন। নিজেই বলেছিলেন যে, সেই লিটন দাস আর নেই।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটা করার পর আবার বললেন, অনেক পরিণত হয়েছেন। নিজেই বললেন, চিন্তা, ভাবনায়, খেলায় সেই আগের লিটন আর নেই। এখন তিনি বদলে যাওয়া এক লিটন। গতকাল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ নীল ম্যাকেঞ্জিও বললেন, লিটন এখন অনেক পরিণত এক খেলোয়াড়।
লিটনের বদলে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, এই লিটনের কাছ থেকে তিনি আরো সেঞ্চুরি আশা করেন, ‘সে অনেক পরিণত হয়েছে। সে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেছে এবং নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা করেছে। এটা খুব আনন্দের ব্যাপার। তাকে দেখে মনে হয়েছে যে, সে জানে যে, সে ব্যাটিংয়ে ঠিক কী করতে চায়। আর খুব ক্ষুধার্ত মনে হয়েছে। সে যেভাবে অনুশীলন করছে এবং খেলা নিয়ে ভাবছে, এটা খুব আনন্দের। আমি মনে করি, সে আরো অনেক সেঞ্চুরি করবে।’
লিটন যে জিম্বাবুয়ে নয়, যে কোনো দলের বিপক্ষে এরকম খেলতে পারেন, সেটা বলতে গিয়ে ব্যাটিং কোচ বলছিলেন, ‘আপনাকে ক্ষুধার্ত থাকবে হবে। আপনাকে যে দেশের হয়ে খেলছেন, সেই দেশের প্রতীকের কথা চিন্তা করতে হবে। কার বিপক্ষে খেলছেন, এটা ব্যাপার নয়; সেটা অস্ট্রেলিয়া হতে পারে বা জিম্বাবুয়ে। কাউকে হালকাভাবে নেওয়া চলে না।’
এর আগে নিজের এই দারুণ সেঞ্চুরি নিয়ে লিটনের ব্যাখ্যা ছিল এটা তার নার্ভাসনেসের ফল, ‘অনেকে হয়তো বোঝেননি, আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম আজকে। কালকে রাত থেকেই অনেক নার্ভাস ছিলাম। কারণ, আমি অনেক দিন থেকেই ওয়ানডে খেলছি না। সবশেষ শ্রীলঙ্কায় আমি খেলিনি। তার পর, আমি জানতাম আজকে আমি ওপেন করব। ব্যাক অব দা মাইন্ডে আরো বেশি চাপ ছিল। ঐ নার্ভাসনেসটা আমার মনে হয়, পজেটিভ হিসেবে কাজ করেছে মাঠে। যেহেতু নার্ভাস, আমাকে আরো ফোকাস নিয়ে খেলতে হবে। সব শট খেলা যাবে না। যদিও পারি সব শট, সব খেলা যাবে না। নার্ভাসনেসের কারণে উইকেটে যতক্ষণ ছিলাম, ফোকাস খুব ভালো ছিল।’
লিটন মনে করেন, নার্ভাসের বদলে বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকলে তার বিপদ বাড়ে, ‘আত্মবিশ্বাস যখন একটু বেশি হয়ে যায়, তখন মনে হয় সব শট খেলা যায়। তখন সমস্যা হয়। যখন ব্যাটিংয়ে গোছানো থাকবেন ব্যাটিংয়ে যে কয়েকটি শট নিয়ে যাচ্ছি, এই শটগুলোয় পারদর্শী, বাকিগুলোয় সিঙ্গেল নিয়ে পার হয়ে যাব, এভাবে শট কমিয়ে দিলে ঝুঁকি কমিয়ে দিলেন। কিন্তু যখন জানবেন যে আমি এখন আত্মবিশ্বাসী, তখন আউটের সুযোগও বেশি থাকে। সফল হবেন ব্যাটিংয়ে, চার-ছয় মারতে পারবেন, কিন্তু আউটের সুযোগও বেশি থাকে।’
লিটন ১২৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ফলে ২০০ রানের আক্ষেপ থেকেই যায়। এটা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ক্রিকেট সম্পূর্ণ হতাশার খেলা। এক ম্যাচ রান করব, আরেক ম্যাচে রান পাব না। রান করলেও চিন্তা হয় যে আরো ১০ রান বেশি করতে পারতাম। সেদিক থেকে আক্ষেপ আছে। কিন্তু আমার মনে হয় উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমার জন্য পারফেক্ট ছিল। সামনে আরো ম্যাচ আছে। পাশাপাশি ওখানে আমি ব্যাট করলে হয়তো ৫ বলে ১০ করতাম। কিন্তু আউটের সম্ভাবনা বেশি থাকত।’
