পরিত্যক্ত স্লুুইসগেটের জন্য খাল খনন বিফলের শঙ্কা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ২১:১৭

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে চারটি পরিত্যক্ত স্লুুইসগেটের কারণে খাল খনন কার্যক্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সখিপুর, ডিএমখালী ও আরশিনগর ইউনিয়নে পরিত্যক্ত স্লুুইসগেটগুলোর কারণে খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে ফসল।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে সখিপুর-আরশিনগর ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে এ চারটি স্লুুইসগেট নির্মাণ করা হয়। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল আনুমানিক ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সখিপুর টু কাশিপুর বাজার খালে দুটি, রশিদ ব্যাপারীর কান্দিতে একটি, আরশিনগর ইউনিয়নে একটি স্লুুইসগেট রয়েছে। তবে সরকারি কোন অফিসের দায়িত্বে এ গেটগুলো করা হয়েছিল সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা কৃষি অফিস ও এলজিইডি অফিস ঘুরেও। এছাড়া যে সেচ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে এসব স্লুুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে সুষ্ঠু পানি প্রবাহের জন্য দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছর কাশিমপুর থেকে সখিপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার খালটি খনন শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। দুইপাশ দিয়ে ৫০ ফুট চওড়া করে খালটি খনন করা হলেও পরিত্যক্ত স্লুুইসগেটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এছাড়া ছোট স্লুুইসগেটগুলোর কারণে নৌচলাচল করতে না পারায় হুমকির মুখে পড়েছে পশুর হাটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে ফসল।

ডিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম মাদবর বলেন, এসব স্লুুইসগেটের কারণেই খালগুলো মরতে শুরু করেছে। খালগুলো খনন করেও কোনো সুফল হচ্ছে না। এক কথায় স্লুুইসগেটগুলো অতিদ্রুত অপসারণ করা দরকার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাব্বির মাদবর বলেন, খালটি দুইপাশে খনন করলে৩ও স্লুুইসগেটের অংশে খনন করা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানি ও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। এছাড়া এই পরিত্যক্ত স্লুুইসগেটের কারণে আমাদের এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। তাই স্লুুইসগেটগুলো অপসারণ করে খাল খনন করলে এর সুফল পাওয়া যাবে।

স্থানীয় কৃষক পিরাজল সরদার ও অন্যরা বলেন, স্লুুইসগেটের কারণে পানি সরতে না পারায় প্রতিবছর আমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সেচের জন্য এগুলো তৈরি করা হলেও, এখন তা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ বলেন, এসব স্লুুইসগেটের কারণে যাতে পানি প্রবাহে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয় এবং খাল খননের সুফল যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আমি অবগত করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, শুনেছি এসব স্লুুইসগেট এলজিইডির অধীনে। যেহেতু এগুলো পানিপ্রবাহ ও নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেহেতু আমি এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেব। এলজিইডির ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী আখতারুজ্জআমান বলেন, এই উপজেলায় চারটি স্লুুইসগেট আছে, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের রয়েছে দুইটি স্লুুইসগেট। এই দুইটি একটু সরু।