বড়ো প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ২১:২১

পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সাক্ষাত্

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে অনেক মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যদিও এর বেশির ভাগেরই অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে নয় বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে আগামী কয়েক বছরে নতুন করে বেশ কিছু বৃহত্ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে অর্থায়ন অন্যতম ইস্যু। এসব বড়ো প্রকল্প যথাসময়ে ও মানসম্পন্ন উপায়ে বাস্তবায়নে সহজ অর্থায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদে বন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ‘ব্লু বন্ড’ চালু এবং বড়ো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির নিয়মিত মূল্যায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত এডভাইজরি অথরিটি গঠনেরও প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের। গতকাল সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব প্রস্তাব দেন। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ঐ প্রতিনিধি দলে সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার হাব রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অবকাঠামো বিশেষ করে সড়ক জল ও রেলপথ, বন্দর, জ্বালানি, টেলিকম খাতের উন্নয়ন প্রায় ৬০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ধরনের প্রকল্পের অর্থায়নে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি কোষাগারসহ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ পড়ে। এ অবস্থা উত্তরণে বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে বন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি বলেন, এতে অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজতর হবে। এছাড়া বড়ো প্রকল্পের তদারকির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ‘ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিডমা)’ নামে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।

এছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শিল্প খাতে নতুন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার গৃহীত বড়ো ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড অনেক কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে। উদ্যোক্তাদের এ বন্দর আরো বেশি হারে ব্যবহারের আহ্বান জানান।