দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। নতুন ভোটার বেড়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ৪৭০ জন। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এ তথ্য জানান।
সিইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন। প্রথম বারের মতো ৩৬০ জন তৃতীয় লিঙ্গকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বৈত ভোটার, মৃত্যুজনিত কারণসহ নানা কারণে ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৪০ ভোটারের নাম । জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহদাত হোসেন চৌধুরী, এনআইডির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালে মার্চের ১ তারিখ জাতীয় ভোটার দিবস প্রথম বারের মতো পালন করেছিল ইসি। দ্বিতীয় ভোটার দিবস উদ্যাপন করল ইসি। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ভোটার হয়ে ভোট দিব, দেশ গড়ায় অংশ নিব’।
এর আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম তথ্য চিত্রের মাধ্যমে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের নানা বিষয় তুলে ধরেন। পরে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, সংশোধন ও নানা তথ্য সংবলিত একটি মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
পরে এবারের হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত নতুন ভোটারদের হাতে স্মার্টজাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেন সিইসি ও আইনমন্ত্রী। এ সময় জানানো হয় পর্যায়ক্রমে সব ভোটারকে স্মার্টজাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এর আগে সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন সিইসি। র্যালিতে ইসি কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
গত বছরের ২৩ এপ্রিল ৫১৯টি উপজেলা ও থানায় একযোগে ভোটার তালিকা হালনাগাদের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এই কার্যক্রমে প্রথম বারের মতো প্রত্যেক ভোটারের চোখের আইরিশ ও ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও কোনো রোহিঙ্গা যাতে ভোটার না হতে পারে তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভান্ডার ব্যবহার করে নিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্য যাচাই করা হয়।
