গণতন্ত্র ছাড়া দেশ আস্থাহীনতার মতো বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া যেমন গণতন্ত্র হয় না, ঠিক একই ভাবে, গণতন্ত্র চর্চা ছাড়া দেশ আস্থাহীন দেশের মতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে ১৯৭৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের চর্চা বন্ধ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটা নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে। দেশে বর্তমানে নির্বাচনের যে চর্চা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখবে সাংবিধানিক সংস্থা ইসি। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার এবং এনআইডির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামসহ ইসির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। ২০১৯ সালে মার্চের ১ তারিখ জাতীয় ভোটার দিবস প্রথমবারের মতো পালন করেছিল সাংবিধানিক সংস্থা ইসি। গতকাল দ্বিতীয় ভোটার দিবস উদ্যাপন করল ইসি। সারাদেশে একযোগে দিবসটি পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ভোটার হয়ে ভোট দিব, দেশ গড়ায় অংশ নিব’।
নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আরো গবেষণা করার পরামর্শ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে যাতে মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে ভোট দিতে পারেন এবং কোথায় তার ভোট পড়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেন। কোন কেন্দ্রে কত ভোট পড়েছে, কারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে তাদের ছবি ও আইডি নম্বরসহ অনলাইনে প্রকাশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এতে ভোটারের সংখ্যা ও উপস্থিতি নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয় থাকবে না। যিনি ভোট দেবেন, তাকে একটি কনফার্মেশন স্লিপ দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কেউ কেউ না জেনে ইভিএম নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সিইসি কে এম নূরুল হুদা ভোটার তালিকার হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন। এর আগে সকালে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সিইসি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত না থাকার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী না। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাজ নয়। সুষ্ঠু ভোটের আয়োজন করাই ইসির দায়িত্ব।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের ও ভোটারদের আস্থা ফেরাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইসির ওপরে মানুষের আস্থা নেই বা আছে, এটা নির্ধারিত করে বলার কোনো সুযোগ নেই। ভোটার ভোট দিতে যাবেন, ইসি ভোটের ব্যবস্থাপনা করবেন। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে যা যা করণীয়, আমরা সব করেছি, করে থাকি বা থাকব। ঢাকা সিটি করপোরেশনে এত বড়ো একটা নির্বাচন হয়ে গেল, শান্তিশৃঙ্খলা একেবারেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল। এত বড়ো জায়গায় সামান্য একটু ধাক্কাধাক্কি ছাড়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব’। ভোটার হওয়াটাই সবচেয়ে বড়ো কথা নয়। আর ভোটাররা তো সব দেশ গড়ায় অংশ নেন না। যারা দেশ গড়ায় অংশ নিতে পারেন, এরকম যোগ্য লোককে ভোটাররা ভোট দেবেন, এটাই আশা করা যায়।
নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটার হয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিন। দেশটা গড়ে তোলার জন্য অংশগ্রহণ করুন। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব—এই প্রতিপাদ্যের মধ্যে একটা স্পিরিট আছে, ফোর্স আছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রী যারা এখনো ভোটার হয়নি ভবিষ্যতে ভোটার হবে, যারা এ বছর নতুন ভোটার হয়েছেন এবং যারা ইতিমধ্যে ভোটার আছেন, তাদের সবার প্রতি আমাদের আবেদন রইল ভোটার হয়ে ভোট দেবেন, দেশ গড়ায় অংশ নেবেন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ভোটার দিবস উদ্যাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। পরে সংসদ ভবনের সামনে একটি র্যালি বের করা হয়, যা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে চার কমিশনার, ইসির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
