এস এম আনোয়ার
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। ঋতুর ধারাবাহিকতায় আসে শীতকাল। বাংলাদেশে যদিও পৌষ-মাঘ এ দুই মাস শীতকাল কিন্তু আমাদের দেশে শীতের আবির্ভাব ঘটে আগেই এবং হয় দীর্ঘস্থায়ী । এদেশে শীতকাল বিরাজ করে তিন মাসেরও বেশি। শীতের মৌসুমটা ধনীর দুলালীদের কাছে যতটা প্রিয় ঠিক তার চেয়েও বেশি অপ্রিয় হয়ে থাকে দীন-দুঃখী মানুষের কাছে। শীতকালের কষ্টগুলো হয় তাদের কাছে বর্ণনাতীত। শীতকে বরণ করতে প্রয়োজন হয় কিছু উষ্ণ কাপড়। যেখানে তাদের থাকে না দেহ ঢেকে রাখার প্রয়োজনীয় উপকরণ। রাস্তাঘাটে এ সময় লক্ষ করলেই দেখা যায় কত মানুষ কতভাবে দিন-রাত কাটায়। শীতের প্রকোপে তারা ঘুমাতে পারে না। আবার অনেক লোক শীতের নির্দয় আচরণে মারাও যায়। তাতে শীতের কী আসে যায়?
কিন্তু আমরা চাইলেই পারি, তাদের একটু আরামের ব্যবস্থা করে দিতে। প্রয়োজন শুধু একটু সহানুভূতি। আমাদের অনেকেরই প্রচুর শীতের কাপড় রয়েছে যা অতিরিক্ত কাপড় হিসেবে আর ব্যবহার করা হয় না। বছরের পর বছর পড়ে থাকে ঘরের মধ্যে। অথচ আমাদের চোখের সামনেই একটা লোক অর্থের অভাবে কাপড় কিনতে না পেরে ঘুমাতে পারে না। আসুন আমরা সবাই আমাদের অতিরিক্ত কাপড়ের একটা অংশ শীতার্তদের মাঝে বিলিয়ে দেই।
গেল বছর শীতের মাসে ঢাকাতে গিয়েছিলাম বেড়াতে। একদিন সকালে হাঁটতে বেরুলাম। হঠাত্ একটা ছেলে দৌড়ে এসে বলল, ভাইয়া আমাকে কিছু টাকা দেন, নয়তো শীতের একটা জামা কিনে দেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম তাকে। শীতের তীব্রতায় ছেলেটা কাঁপছিল। মুহূর্তের মধ্যেই কেমন জানি অনুভব হলো। খানিক পরে তাকে নিয়ে চললাম নিকটস্থ শপিংমলে। শপিংমলে প্রবেশপথের পাশে মূর্তির পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখতেই আমাকে প্রশ্ন করল, ভাইয়া তারা তো আমাদের মতো দেখতে কিন্তু তারা তো মানুষ না, তারা প্লাস্টিকের তৈরি। তাদের তো শীত নাই অথচ তাদের গায়ে শীতের পোশাক জড়ানো; কিন্তু আমরা মানুষ আমাদের শীত আছে অথচ আমাদের গায়ে শীতের কাপড় থাকে না কেন?
ছেলেটির এমন অবাক করা প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারিনি। তাকে শীতের একটা কাপড় দিয়ে চলে এলাম। সে অনেক খুশি হয়েছিল শীতের কাপড়টা হাতে পাওয়ার পর। যতটা অবাক হয়েছিলাম প্রথমে তার চাহনিটা দেখে ঠিক তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলাম তার আনন্দের হাসিটা দেখে।
সবশেষে আমার একটা অনুরোধ রইল পাঠকদের প্রতি—আসুন আমরা সবাই আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। ফুটপাতের বস্ত্রহীন মানুষকে শীতবস্ত্র উপহার দেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শীতের আনন্দ উপভোগ করি।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ
