২ হাজারের বেশি অফিসার নেবে ৯ ব্যাংক

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ১৯:২৮

মাহবুব শরীফ

 

বর্তমানে তরুণদের পছন্দের পেশার মধ্যে অন্যতম পেশা হলো ব্যাংকে চাকরি। তরুণদের পছন্দের পেশার শীর্ষে ব্যাংকে চাকরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ব্যাংকিং সেক্টরে কাজের ভালো পরিবেশ; বেতন-কাঠামো আকর্ষণীয়, নিয়মমাফিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি। ব্যাংকারদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি রয়েছে চাকরির নিরাপত্তা ও পেনশনের সুবিধাও। মোটকথা কেউ ব্যাংকে চাকরি পেলে তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রায়ই জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিবছর প্রচুর জনবল নিয়োগ দিয়ে থাকে। এবার নতুনদের স্বপ্নের আকর্ষণীয় ব্যাংকিং ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ৯ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমন্বিতভাবে ২ হাজার ৪৬ জন অফিসার (জেনারেল) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। তাই এসব ব্যাংকে আবেদন করে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনিও নিতে পারেন এ সুযোগ।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে ৩১৫, জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ৩৬৯, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে ৪৭০, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে ১৪, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৫৩০, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ২৮৯, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে ৪৭, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে ৫ এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকে ৭ জন অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

আবেদনের যোগ্যতা

মেয়াদি স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকলে অফিসার (জেনারেল) পদে আবেদন করা যাবে। এসএসসি বা সমমান এবং এর পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষায় কমপক্ষে দুইটিতে প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। ১ জুলাই ২০১৯ তারিখে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থী ছাড়া সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

 

বেতন স্কেল

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাদেরকে চুরান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে তাদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী, ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা স্কেলে বেতন এবং নিয়মানুযায়ী অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে।

 

আবেদনের পদ্ধতি

উল্লিখিত পদের বিপরীতে আবেদন করতে হলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত erecruitment.bb.org.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদনের সময় পরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পেমেন্ট গেটওয়ে রকেটের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ৮ মার্চ, ২০২০ খ্রি. রাত ১২টা পর্যন্ত।

নতুন আবেদনকারীদের নিবন্ধন করতে হবে। প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম এসএসসি বা সমমানের সনদে যেভাবে লেখা আছে, অনলাইন ফরমে সেভাবে পূরণ করতে হবে। ফলাফলের ঘরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের প্রকাশিত পরীক্ষার ফলের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার পর ট্র্যাকিং নম্বরযুক্ত ফরমটি সংরক্ষণ করতে হবে। যথাযথভাবে আবেদনের পর সিভি আইডেনটিফিকেশন নম্বর, ট্র্যাকিং নম্বর ও অ্যাপ্লিকেন্ট কপি প্রার্থীকে সংরক্ষণ করতে হবে।

পরবর্তী সময় প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য এগুলো কাজে লাগবে। প্রবেশপত্র ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করা যাবে। প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষার সময় সব একাডেমিক পরীক্ষার সনদ, জাতীয়তার সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে।

 

পরীক্ষা পদ্ধতি

বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রার্থীদের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কিংবা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।

 

যে বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারেন

সরকারি সব ব্যাংকে এই পদের জন্য প্রায় একই প্রশ্ন করা হয়। সেজন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। মাধ্যমিক শ্রেণির বইগুলোও খুব কাজে দেবে। বেসিক নলেজ ভালো থাকতে হবে মনে রাখতে হবে যার বেসিক যত ভালো সে পরীক্ষায় তত ভালো করবে।

বাংলা :শুরুতে যে পরীক্ষাটা হবে তা হলো এমসিকিউ পরীক্ষা। এতে থাকবে বাংলা ব্যাকরণ অংশের প্রবাদ প্রবচন, উপসর্গ, সন্ধি বিচ্ছেদ, সমার্থক শব্দ, বাংলা পরিভাষা, বাগধারা, পদ, সমোচ্চারিত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, বিপরীত শব্দ, শুদ্ধ বানান, বচন, সমাস, কারক, বিভক্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন। বিভিন্ন উপন্যাসের লেখকের নাম, বিভিন্ন গ্রন্থের নাম, বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্রের নাম, রচয়িতা, পঙি্ক্তমালা, জন্ম-মৃত্যুকালসহ উপন্যাস, নাটক ও সাহিত্যের অন্যান্য অংশ থেকে প্রশ্ন থাকে।

ইংরেজি :বর্তমান সময়ে ইংরেজি ছাড়া পরিক্ষার কথা কল্পনাই করা যায় না। এই পরীক্ষাতেও তার ব্যতিক্রম নয়। ইংরেজির গ্রামার অংশে এমসিকিউ পরীক্ষায় গ্রামারের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। রচনামূলক অংশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইংরেজি রচনা আসতে পারে। বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদও থাকে। সেসব বই ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্য ইংলিশ গ্রামার বইগুলো অনুশীলন করলে আপনার প্রস্তুতি বেশ ভালো হবে।

গণিত :অন্য বিষয়গুলোর মতো পাটিগণিত ও বীজগণিত দুই অংশ থেকেই প্রশ্ন করা হয় এমসিকিউ এবং রচনামূলক পরীক্ষায়। পাটিগণিতে লসাগু, গসাগু, শতকরা, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়মসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। বীজগণিতে উত্পাদক নির্ণয়, সমীকরণ, মূলদ, অমূলদ সংখ্যা, অসমতা, সূচক ও লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। সব সময়েই নিচের ক্লাসের বইগুলো বেশি কাজে আসে।

সাধারণ জ্ঞান :বরাবরই সকল নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় সাধারণ জ্ঞান অংশে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থা, ভাষা আন্দোলন, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সভ্যতার ইতিহাস, শিল্প ও বাণিজ্য, অর্থনীতি, কৃষি, সর্বশেষ বাজেট, জিডিপি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, সরকার, রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থাসহ সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক বিষয়ের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশ, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক আইন, বিচার, দিবস, সন্মেলন, পুরস্কার, সম্মাননা, খেলাধুলাসহ সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বের নানা ঘটনা নিয়ে সাজানো হয় প্রশ্নাবলি।