পরিভ্রমণ নয় যেন যুদ্ধ জয়

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ১৯:৩১

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমেই পরিবর্তন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, চাহিদা তথা প্রায় সবকিছু। প্রতিযোগিতার পাল্লায় পিছিয়ে নেই মেয়েরা। শিশু ও যুব বসয়সীদের অতিরিক্ত যোগ্যতা অর্জন লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্কাউটস’ ১৯০৭ সালে ব্যাডেন পাওয়েল লন্ডনে এই আন্দোলনের সূচনা করেন। নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্কাউট সদস্যরা অর্জন করে সর্বোচ্ছ অ্যাওয়ার্ড। রোভার স্কাউট শাখার সর্বোচ্ছ অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে, ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ (পিআরএস)।

বাংলাদেশ স্কাউটস গাজীপুর জেলা রোভারের প্রথম পিআরএস অর্জন ২০১৯ সালে, মৌচাক ওপেন গার্ল-ইন-রোভার স্কাউট ইউনিট হতে অর্জন করে এক সংগ্রামী মেয়ে রোভার স্কাউট নুসরাত জাহান রানী। জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৌচাক, গাজীপুরে  ১৯ জানুয়ারি ২০২০ মাহামন্য রাষ্ট্রপ্রতি ও চিফ স্কাউট মো. আবদুল হামিদ, রাণীকে পিআরএস অ্যাওয়ার্ড পরিয়ে দেন এবং সনদপত্র হস্তাস্তর করেন। রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষাার্থী রানী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সম্পৃক্ততা ও সফলতা অর্জনের কথা উত্সর্গ করা হচ্ছে আগামী প্রজন্মের সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে।

২০০৬ সালে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজি জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যলয়ে সপ্তম শ্রেণীতে স্কাউটিংয়ে যোগদান করি। কলেজে অধ্যয়ন করার সময় কমিউনিটি বেইজড স্কাউট ইউনিট মৌচাক ওপেন স্কাউট গ্রুপে যোগদান করি রোভার স্কাউট হিসেবে। ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১১, রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাহাদুরপুর, গাজীপুরে ‘সপ্তদশ রোভার মুট’ অনুষ্ঠিত হয়। মুটের পিআরএস রি-ইউনিয়ন দেখতে পাই মো. হারুন-অর-রশিদ (সাগর) পিআরএস ভাইয়ের কাঁধে ভিন্ন অ্যাপুলেট! আমার কৌতূহল জাগে মনে পরে জানতে পারি তিনি পিআরএস অ্যাওয়ার্ড    করেছেন এবং গাজীপুর জেলাতে কোনো পিআরএস নেই। তখন আমি মনে মনে স্থির করেছিলাম যে, আমিও পিআরএস অ্যাওয়ার্ডটি অর্জন করব।

ওখান থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু এবং রোভার প্রোগ্রাম অনুযায়ী সব কাজ ও শর্ত পর্যায়ক্রমে  পূরণ করতে থাকি। প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মাঝ পথে ২০১৬ সালে আমার বিয়ে হয়ে যায়, তখন কিছুটা বাধা ছিল। আমার স্বপ্ন পূরণে আমার স্বামী ড. মো. সাবিরোজ্জামানের সহযোগিতায় অতিক্রম করি।

এক জন মেয়েকে স্কাউটিং করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় পারিবারিক সমর্থন। আমর ক্ষেত্রেও আমার পরিবারের সহযোগিতা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে আমার বাবা জনাব মো. নূর বাহাদুর। তিনি আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য সব সময় অনুপ্রাণিত করতেন, আমার মা বিলকিস বেগম উনার সহযোগিতাও কম ছিল না। বিয়ের পর আমার স্বামী ড. মো. সাবিরোজ্জামান, অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার সহযোগিতা ও পরামর্শ আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাকে আরো দৃঢ় করেছে। আমি যখন স্কাউটিং কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতাম তখন তিনি আমাদের সন্তান সুসমি নুর জামান এবং সিয়ারা নুর জামান দুই জনকে সময় দিতেন।

রোভার প্রোগ্রামে আমার কাছে সব থেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল, পরিভ্রমণকারী ব্যাজ অর্জন করা। এই ব্যাজ অর্জনে রয়েছে মৌচাকের অনেক মধুর স্মৃতি! গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের  থেকে শুরু করে নরসিংদী সরকারি কলেজ পর্যন্ত, ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর ২০১৪ পর্যস্ত মানচিত্র দেখে, কম্পাসের সাহায্যে (ডিগ্রি ও   কদম অনুসরণ করে) রোভার স্কাউট প্রোগ্রামের শর্ত অনুযায়ী, পাঁচ দিনে পায়ে হেঁটে ১৫৯ কিলোমিটার পরিভ্রমণ করি (রোভার প্রোগ্রামে পাঁচ দিনে ১৫০ কি.মি. পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়)।

পরিভ্রমণের প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় মানচিত্র অঙ্কন নিয়ে খুবই সমস্যা হয়, তখন বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার  (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন স্যার ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য কাজেও বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপ-কমিশনার (প্রশিক্ষণ) মো. আরিফুজ্জামান, পিএস ও পিআরএস স্যার; মনসিকভাবে প্রচুর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সাবেক ঢাকা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট (এসআরএম) প্রতিনিধি শুরু থেকে শেষ পর্যস্ত সার্বিক সহযোগিতা করেছেন পরিভ্রমণ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য এবং আমার ইউনিটের সবার আন্তরিক সহযোগিতা ছিল।