মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
ছোটোবেলা থেকেই আঁকতে পছন্দ করতেন তিনি, যেখানে যা দেখেছেন তারই ছবি এঁকেছেন। আর শুধু আঁকা নয়, সাজতেও ভালোবাসতেন, নিজে যত্ন করে সাজতেন আর কাছের মানুষদের ধরে ধরে সাজিয়ে দিতেন। এই মানুষটিই সেগুফতা আজমী। যার মেকওভার বাই সেগুফতা হয়ে উঠেছে বড়ো একটি নাম। তিনি জিতেছেন উজ্জ্বলা পথপ্রদর্শক অ্যাওয়ার্ডসহ নানান পুরস্কার।
দেশের বাড়ি দিনাজপুরে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। বাবা বেসরকারি চাকরি করতেন, মা গৃহিণী। ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন। ঢাকা সিটি কলেজ থেকেই ফিন্যান্সে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি তার ব্রান্ডের যাত্রা শুরু করেন। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এখন ভালো অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে মেকওভার বাই সেগুফতা।
মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে, মানুষের চোখ দিয়ে দেখে সার্ভিস দিতে পছন্দ করেন তিনি। তবে সবার মনমতো কাজ করা অনেক কঠিন হলেও নানান ধরনের মানুষের নানান চাহিদা নিয়ে কাজ করতে বরং তার অন্য ধরনের ভালোলাগা কাজ করে।
২০১৮ সালে তিনি রেড বিউটি স্যালুন ও উজ্জ্বলার সিইও আফরোজা পারভীনের আয়োজিত উজ্জ্বলা পথপ্রদর্শক অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ পান। বহু প্রতিযোগীর মধ্য দিয়ে ব্রাইডাল মেকাপ ও হেয়ার স্টাইল ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন তিনি। একই বছরে উইমেন্স ওয়ার্ল্ড বিউটি পারলার আয়োজিত ব্যাটেল উইথ ব্রাশে দ্বিতীয় রানার আপ হন তিনি।
উজ্জ্বলার তিনটি কোর্সসহ দেশি-বিদেশি অনেক কোর্স করেছেন সেগুফতা আজমী। বর্তমানে তিনি উজ্জ্বলার ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আছেন। শুরুর দিকে সাহস, অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মা, বোন ও বন্ধুদের কাছ থেকে। সহযোগিতা পেয়েছেন তার জীবনসঙ্গীর কাছ থেকেও।
আঁকা আর মেকাপে বাহিরে নাচতে পছন্দ করেন তিনি। সমুদ্রসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও ভালো লাগে তার, অবসরে রান্না করেন, পরিবারকে সময় দেন আর বেশি বেশি মেকাপসংক্রান্ত বই পড়েন। তিনি মনে করেন, মানুষের কাছে এখন অনেক বিকল্প, তাই নিজেকে সঠিকভাবে তৈরি করে নামতে হবে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি প্রয়োজন তা হলো মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার।
