সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে ‘উন্মুক্ত পাঠশালা’

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ১৯:৩৩

>> আরিফুজ্জামান উজ্জল, জাবি

 

সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি রুমের সমন্বয়ে টিনের চালের একটি বাড়ি। বাড়িটির কাছে যেতেই একটি রুমের ভেতরে দেখা গেলো কিছু শিশু মেঝেতে বসে পড়ছে। তাদের সামনে আছে ছোট ছোট টুল। আর তাতে রাখা আছে বই, খাতা, পেন্সিল ও ব্যাগসহ নানা শিক্ষা উপকরণ। রুমের ভিতরে একজন শিক্ষক তাদের পড়াচ্ছেন বাংলা বর্ণমালা, গণিত, ইংরেজিসহ নানান বিষয়। এই একটি রুমের তৈরি স্কুলের নাম ‘উন্মুক্ত পাঠশালা’। যেখানে বিনামূল্যে পাঠদান করা হয় সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের।

কিন্তু অপ্রত্যাশিত বাধা আর বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে এসব শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা দিতে পারছেন না পাঠশালা সংশ্লিষ্টরা। তারপরও শিশুদেরকে আলোর দিশা দেখাতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পাঠশালাটির প্রতিষ্ঠাতা গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের উইকেন্ড কোর্সে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী তৌহিদ মোরশেদ নোমান।

এ স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়ানোর পাশাপাশি তাদের মাঝে মধ্যে ব্যাগ, বই, খাতা, কলম ও চকলেট সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় খেলাধুলাসহ নানা অনুষ্ঠানের। এছাড়াও শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করতে নিয়মিত পালন করা হয় জাতীয় দিবসগুলো। সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষেও স্কুলটির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

‘উন্মুক্ত পাঠশালা’র শিক্ষিকা শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমার অনেক আগে থেকেই শিশুদের পড়ানোর প্রতি ইচ্ছা ছিল। গ্রামের বাড়ি নঁওগা থেকে এসে এখানে বেকার বাসায় বসে থাকতাম। পরে একদিন নোমান স্যার আমাকে অসহায় এসব শিশুদের পড়ানোর জন্য বলেন। সেই থেকে এখানে তাদের পড়ানো শুরু করি। তাদের পড়াতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিরক্ত হই। কিন্তু কিছু সময় ওরা এমন কথা বলে যেগুলো মন ভরিয়ে দেয়।’

‘উন্মুক্ত পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ মোরশেদ নোমান বলেন, ‘সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আমার আগে থেকেই ছিল। তার প্রেক্ষিতে একদিন দেখি একটি ছেলে মাঠে দাঁড়িয়ে বড়দের ফেলে দেওয়া জ্বলন্ত সিগারেট টানছে। আমি কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। তখন জানতে পারলাম—তার নাম সাগর। তার মা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে আহত একজন কর্মী এবং বাবা রিক্সাচালক। আর্থিক দিক ভালো নয় বলে সে স্কুলে যেতে পারে না। তখন মনে হলো, এই ছেলেটাকে দিয়েই শুরু করা যেতে পারে। আর সেই লক্ষ্যে ২০১৭ সালে সাগরকে নিয়েই ‘উন্মুক্ত পাঠশালা’ নামের এ স্কুলটি চালু করি। এ বিষয়ে স্থানীয় কমিশনার নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাদের নিয়ে নৈশকালীন একটি স্কুল করারও ইচ্ছা আছে।’