সায়েক সজীব
হানিমুনের জায়গা নির্বাচনের সুযোগ পাইনি। জুমার নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই বিয়ে হয়েছে সকালেই। বিকেলের ট্রেনেই রওনা দিতে হবে। মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জয়েন করার লাস্ট ডেট ছিল বিয়ের একদিন পরেই। আত্মীয়স্বজন যাঁরা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন, সবার আফসোস...আহা রে! বাসর তাহলে ট্রেনে!
আমার খুব ভালো লাগছিল। কারণ ট্রেনটা ছাড়লেই আমি অপলক দৃষ্টিতে সম্পাকে দেখতে পারব। সারা রাত জেগে থাকব। সম্পা যখন সারা দিনের ক্লান্তি ভুলে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে, তখন যেন ওর কোনো কষ্ট না হয়, তাই আমাকে সারা রাত জেগে থাকতে হবে। আরো অনেক চিন্তা যখন মাথায় ঘুরছিল, তখন মনে পড়ল কী অদ্ভুত ও তাড়াহুড়া করেই না আমাদের বিয়ে হলো! অথচ বিয়ে ঠিক হয়েছিল ১৪ মাস আগে। আরো ভাবছিলাম সম্পা কি আমাকে বিয়ে করে আসলেই খুশি! একজন ডাক্তার মেয়ের সঙ্গে সাধারণ একটা কলেজের প্রভাষক সত্যিই বেমানান, হোক না সেটা জাপানিজ কলেজ। নিজ এলাকায় পোস্টিং হলে হয়তো এভাবে বিয়ে হতো না। ধুমধাম করে পূর্ব নির্ধারিত ডেটেই। কিন্তু দূরে পোস্টিং হওয়ার কারণেই এমন তাড়াহুড়া।
সাতক্ষীরা পৌঁছে আমরা জানতে পাড়লাম, সিভিল সার্জনের ফরওয়ার্ডিং লেটার ছাড়া জয়েন করা যাবে না। শনিবার সিভিল সার্জনের অফিস বন্ধ। তার মানে আরো একদিন বিলম্ব। হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমরা বের হলাম সম্পার নামের সিল বানানোর জন্য। সিল বানাতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। পাশের একটা চায়ের দোকান সম্পার বেশ ভালো লাগল। দোকানের পেছনটা আরো সুন্দর। দুইজনের বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা। পাশের লেকটার অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা আসার ভোগান্তিটা যেন আমরা মুহূর্তেই ভুলে গেলাম। চা যখন শেষের দিকে, সম্পা বলল, এখানে বসে এত ভালো লেগেছে যে, আমার মনে হচ্ছে, আমরা আসলে এখানে কাজে আসিনি, একটা অপরিচিত জায়গায় হানিমুনে এসেছি।
অলংকরণ :সোহেল আশরাফ
