ভ্যাট রিফান্ড পাওয়ার পথ সহজ হলো

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ২১:২২

ফেরত পাওয়া যাবে আবেদনের তিন মাসের মধ্যে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আয়কর কিংবা মূল্য সংযোজন কর বাবদ অতিরিক্ত কর্তনকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া (রিফান্ড) নিয়ে দীর্ঘ জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। কী প্রক্রিয়ায় করদাতাদের রিফান্ডের অর্থ পরিশোধ করা যাবে—সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ। এটি বাস্তবায়ন হলে আবেদনের তিন মাসের মধ্যে ভ্যাট পরিশোধকারীর ব্যাংক হিসাবে ঐ অর্থ জমা হবে। আর পরিশোধিত অর্থ ৫০ হাজার টাকার কম হলে তা পরবর্তী ছয় অর্থবছরের মধ্যে সমন্বয় করা যাবে। অর্থাত্ ৫০ হাজার টাকার ওপরে প্রাপ্য অর্থই কেবল ভ্যাট ফেরত দেওয়া যাবে। গত ১ মার্চ এনবিআর এ বিষয়ে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছে।

এ অর্থ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের নামে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের মাধ্যমে (সিজিএ অফিস) অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর সরকারি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কমিশনারেটের নামে প্রদত্ত কোডের মাধ্যমে তা ব্যাংকের সরকারি হিসাব শাখা থেকে পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী করদাতার কাছ থেকে কর্তিত অগ্রিম কর পরবর্তীতে সহজে রিফান্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে অতিরিক্ত কর আদায় হলে করদাতা ঐ কর প্রাপ্য হলেও তা সাধারণত ফেরত পান না। কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অনেক কথা বলা হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ফল আসেনি। অবশেষে গত বাজেটে করদাতার অর্থ তিন মাসের মধ্যে রিফান্ডের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু পরিশোধের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত জটিলতায় সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো তা পরিশোধ করতে পারছিল না। বিশেষত নতুন অর্থবছরে আগাম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) পরবর্তীতে পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর অবশেষে এনবিআর পরিশোধ পদ্ধতির বিষয়ে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করল।

ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফেরত দাবিকৃত অর্থ ফেরতযোগ্য হলে শুরুতে দায়-দেনা নির্ধারণ করে তা সমন্বয় করতে হবে। এর পর অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলেই কেবল তা ফেরত দেওয়া যাবে। ৫০ হাজারের নিচে হলে ঐ অর্থ পরবর্তী ছয় বছরে সমন্বয় করা যাবে।

তবে বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে ফেরত প্রদানের পদ্ধতিতে কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। অন্যদিকে কোনো অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিশোধিত আগাম কর পরিশোধের জন্য আবেদনকারীকে চূড়ান্ত ভোক্তা হতে হবে। আগামী কর পরিশোধের তারিখ হতে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে ঐ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।