পিরোজপুরের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের দুর্নীতি মামলায় জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে জেলা জজ অপসারণের ঘটনাটি প্রধান বিচারপতির নজরে আনার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের অভিভাবক। তিনি নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটির প্রধান। প্রধান বিচারপতি পিরোজপুরের জেলা জজের অপসারণের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলতে পারবেন। আমরা এই বেঞ্চে বসে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না কারণ ওই প্রত্যহারের সঙ্গে ডিসিপ্লিনারি একশনের বিষয়টি জড়িত।
আজ বুধবার পিরোজপুরের জেলা জজ প্রত্যাহার সংক্রান্ত একাধিক পত্রিকার প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
এর আগে আদালতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির, এম এ আউয়ালের জামিন সংক্রান্ত পত্রিকার প্রতিবেদন পড়ে শোনান। এসময় তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতারা জামিন শুনানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে একজন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে তা বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। সংবিধানে মৌলিক কাঠামোতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, একজনকে জজকে তাৎক্ষনিক বদলি করে আরেকজন জজকে দায়িত্ব দিয়ে জামিন নেয়া হয়েছে তাতে আমাদের মধ্যে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
এ নিয়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বিচারপতি এমএম ইনায়েতুর রহিম বলেন, সবচাইতে ভালো হয় বিষয়টি আপনারা প্রধান বিচারপতির নজরে আনুন, এখানে বসে বলতে পারবো না ওই প্রত্যাহারের আদেশ সঠিক হয়েছে কি হয়নি। জিএ কমিটির নিয়মিত সভা সম্পন্ন না হলেও ওই কমিটির প্রধান হিসেবে প্রধান বিচারপতি তাঁর একক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম আরো বলেন, আমাদেরকে আইনের মধ্য থেকে কাজ করতে হয়। এজন্যই আপনাদের জন্য ভালো হবে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা। আমরা স্বপ্রনোদিত হয়ে কোন রুল ইস্যু করবো না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী অধ্যাপিকা লায়লা পারভীনের জামিন নিয়ে দিনভর নাটক হয়েছে। দুপুরে তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর সাড়ে চার ঘণ্টা পর তা আবার মঞ্জুর করা হয়। আউয়ালের জামিন নামঞ্জুরকারী জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে বদলি করা হয়।
ইত্তেফাক/এআর
