দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ১৯:৩৪

কাজী শাহজাহান সবুজ

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

 

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কী ভুলিতে পারি।’—এই শ্লোগান নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করতে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা বসে বেনাপোল চেকপোস্টের ভারত-বাংলাদেশ নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন আর জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী নারী-পুরুষ ও শিশুরা দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শতস্ফুর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। মিলনমেলাটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপন পরিষদ।

বিজিবি ও বিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তা বেস্টনি পেরিয়ে ভাষার টানে বাঙালির বাঁধনহারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় দুই বাংলার মানুষ। সীমান্তরেখা ভুলে গিয়ে ভাষাপ্রেমীরা ছুটে এসে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে উভয়কে বরণ করে নেওয়া হয় একুশের এ মিলনমেলায়। বিজিবি ও বিএসএফ-এর সদস্যরা ভাষাপ্রেমীদের বাঁধভাঙা আবেগের কাছে হার মেনে তারাও নির্বাক হয়ে দেখতে থাকে মিলনমেলার দৃশ্য। সীমান্তরক্ষীরা ছিল আবেগ প্রবণ। তাদের অপুলক দৃষ্টিতে ছিল ভালোবাসা আর শ্রোদ্ধাবোধ। মিলনমেলায় ভাষাপ্রেমীদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বিজিবি ও বিএসএফ।

সকাল সাড়ে ৯টায় জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী  শহীদ বেদিতে প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন যশোর ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বনগাঁ পৌর মেয়র সংকর আঢ্য, বেনাপোল কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যক, লেখকসহ দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষেরা। বিনিময় হয় দুই বাংলার মানুষের সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন যশোর ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও ভারতের বনর্গা পৌর মেয়র সংকর আঢ্য।

ভাষা শহীদদের স্মরণে দুই দেশের মানুষের সম্প্রীতি আর ভালোবাসার বাঁধনকে আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় মিলনমেলা।  এদিকে বেনাপোল পৌরসভার আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকালে অনুষ্ঠান শেষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শিল্পী বিশ্বাস। বেনাপোল পৌর সভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বেনাপোল পৌরসভা।