কেউ নিজের জায়গা খালি বা পতিত রেখে দিলে অর্থাত্ কোনো চাষাবাদ না করলে চাষাবাদে তাঁদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। তারপরেও যদি কেউ চাষাবাদে আগ্রহী না হন তাহলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজ হতে হবে—জমি নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে ওখানে তাদের নির্বাচিত কৃষকদের দিয়ে চাষাবাদ করানো। ফসল উত্পাদনের পরে তিনটি ভাগ করতে হবে, যেমন তিন ভাগের এক ভাগ পাবেন কৃষক ভাইয়েরা; জমির মালিক পাবেন এক ভাগ; আরেক ভাগ নেবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। শুধু গ্রামাঞ্চলে নয়, বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা শহরগুলোতে বাসা-বাড়ির সামনে কি পিছনে এদিকে ওদিকে খালি পড়ে থাকা জায়গায় বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজির চাষাবাদেও জনগণকে আগ্রহী করে তুলতে হবে অবশ্য-অবশ্যই। আর সেটা করা গেলেই দেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য হবে মঙ্গলজনক। দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে; বাড়ছে মানুষের মধ্যে অলসতাও; কতিপয় লোক বিলাসবহুল ভবনে বসে সমালোচনা করছেন। এমনকি কোনো কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে রঙ্গতামাশা করে মজা লোটেন, কেউবা রাজনৈতিক ফায়দাও নিতে চান। এই ধরনের লোকসহ সকল শ্রেণির লোকের বাড়িতে খালি জায়গা থাকলে তাঁদেরকেও বাধ্য করা হোক চাষাবাদে। প্রয়োজনে বাড়ির ছাদে টবে প্রতিটি পরিবার যাতে চাষাবাদ করে, সে ব্যাপারে সবাইকে উত্সাহিত করে তোলা জরুরি। সুতরাং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ যত কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপজেলা পর্যন্ত রয়েছেন, তাঁরা প্রতিটি বাসা-বাড়িতে পদচিহ্ন রেখে সর্বস্তরের জনগণকে চাষাবাদে আগ্রহী করে তুলুন। কোনো বাসা-বাড়ির এক ইঞ্চি জায়গা যাতে পতিত না থাকে, এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারি চাই। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে প্রথমে চাষাবাদ শুরু করতে হবে। আর এভাবেই প্রতিটি বাসা-বাড়ির আঙিনা চাষাবাদের আওতায় আনা গেলে কোনো কৃষিপণ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আর হা-হুতাশ থাকবে না।
লিয়াকত হোসেন খোকন, ঢাকা
