মোহামেডানকে উড়িয়ে শোধ নিল আবাহনী

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ২১:৫৮

আবাহনী ৪ :০ মোহামেডান

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

কীভাবে পালটা জবাব দিতে হয় তা দেখিয়ে দিলো আবাহনী। প্রায় আট মাস আগে এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের গত আসরের ফিরতি পর্বে মোহামেডান ৪-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়েছিল। সেই আঘাতে আবাহনী শিরোপা লড়াইয়ে ছিটকে যাওয়ার পথটা আরেকটু বড়ো হয়েছিল। গত লিগে শিরোপা হারানো আবাহনীকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। আট মাসের ব্যবধানেই মোহামেডানকে পালটা জবাব দিয়ে দিল আবাহনী। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী ৪-০ গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে রাজসিকভাবে ফিরেছে।

ফ্লাড লাইটের আলোয় ৪ গোল দেখার পরও মোহামেডান গ্যালারিতে থাকা দুইশ-তিনশ দর্শকের একজনও চলে যাননি। চার গোলের নিশ্চিত জয় বুঝতে পেরেও আবাহনীর গ্যালারিতে থাকা দুইশ-তিনশ দর্শকের একজনও উঠে যাননি। মোহামেডান আবাহনী ফুটবল ম্যাচ সব সময় অন্যরকম একটা স্বাদ দেয় ফুটবল পিপাসুদের। এক ম্যাচে ৪ দেখার পরও অপলক দৃষ্টি মাঠে।

রহমতগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনী ছিল নড়বড়ে। ১-০ গোলে জিতলেও খেলায় মন ভরেনি দর্শকের। কোথায় গেল সেই আবাহনী। মোহামেডানের দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগে অন্য রকম আবাহনীকে দেখা গেল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবাহনী নিজেদের বড়ো জয়টা তুলে নিয়েছে। ঢাকার দর্শক মোহামেডানের আগের ম্যাচটা দেখেনি। সিলেটে শেখ রাসেলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়ে মাঠে এবং ড্রেসিং রুমে উল্লাস করেছিল। সিলেটে জয়ের খবরে ঢাকার দর্শক বাড়তি উত্সাহ নিয়ে মাঠে গিয়ে মন খারাপ করে ঘরে ফিরেছে। আবাহনীর সমর্থকরা বলছিলেন ইটের বদলে পাটকেল ছুড়লাম আমরা।

ভুল কৌশলে যাওয়ার খেসারত দিয়েছে মোহামেডান। রক্ষণভাগে দেয়াল বলতে কিছুই নেই। পুরো ঘরই ভাঙা। ভাঙা ঘর বুঝতে পেরে আবাহনীর আক্রমণভাগের সানডে, বেলফোর্ট, এডগার, পেছনে জীবন আগুনের ফুলকির মতো জ্বলে উঠল। অথচ শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল মোহামেডান ঝড় তুলবে। প্রথম ১০ মিনিট আবাহনীর ওপর দিয়ে মোহামেডানের আক্রমণগুলো মুখথুবড়ে পড়লেও ঝড় সামাল দিয়ে আবাহনীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা চোখ ছানাবড়া হওয়ার মতোই। মাত্র ২৬ মিনিটে মোহামেডানের জালে আবাহনীর তিন গোল। তিন গোলই বিদেশিদের নামে লেখা।

অধিনায়ক জীবন থেকে হাইতিয়ান বেলফোর্টের বলটা মোহামেডানের জাপানি অধিনায়ক ইউরি নাগাতা কর্নার করে বাঁচিয়ে দেন। সেই কর্নারের বল গোলে পরিণত করেছেন বেলফোর্ট ১-০। কোণঠাসা মোহামেডন। বেলফোর্ট গোল করালেন কিরগজ ফুটবলার এডগারকে দিয়ে। এডগার ভলি করে দর্শনীয় গোল করেছেন ২-০। ৪২ মিনিটে এবার এডগার গোল করিয়েছেন। এডগারের বলটা না ধরে ছেড়ে দিয়েছেন নাইজেরিয়ান সানডে। বেলফোর্ট ফিনিশ করেছেন নিজের দ্বিতীয় গোল করে ৩-০।

তিন বিদেশিদের ভিড়ে সাধ পূর্ণ হয়েছে আবাহনীর অধিনায়ক নাবীব নেওয়াজ জীবনের। মোহামেডান আবাহনী ম্যাচে গোল পাননি কখনো। সেই সাধ পূর্ণ করলেন কাল। ম্য্যাচের চতুর্থ গোলটি করেছেন জীবন। সানডে নিজে গোলপোস্টে হেড না করে নামিয়ে দিলে জীবন গোল করেন ৪-০। ইটের বদলে পাটকেল ছুড়ল আবাহনী।

চার গোলে জিতবে আশা করেননি জীবন

খেলা শেষে মোহামেডান আবাহনীর সব খেলোয়াড়ই ড্রেসিং রুমের দিকে চলে গেছেন। আবাহনীর অধিনায়ক জীবনকে পাওয়া গেল। উত্ফুল্ল জীবন বললেন, ‘ভাবিনি ৪ গোলে ম্যাচ জিতব। ভালোই হয়েছে আমার অধিনায়কের সময় এত বড়ো জয় পেলাম।’ পেছনের কথা টেনে জীবন বললেন, ‘গত লিগের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতেছিলাম, আমরা কীভাবে ৪ গোলে হারলাম। ঐ ম্যাচের পর কোচ (মারিও লেমস) তিন দিন কথাই বলেননি। রুপুদা দুই দিন কথা বলেননি আমাদের সঙ্গে। টিম মিটিংয়ে বলেছি মোহামেডানকে কোনো সুযোগ দেবো না।’ মোহামেডানের ভাঙা রক্ষণের সুযোগ নিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে জীবন বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই।’