ক্রিকেটারদের
দ ল ব দ ল
স্পোর্টস রিপোর্টার
সেই ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খেলছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। কয়েক যুগের ঐতিহ্যকে এবার বিসর্জন দিয়েছে সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস)। আসন্ন বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে থাকছে না বিদেশি কোটা। বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়াই মাঠে গড়াবে প্রিমিয়ার লিগ।
বিদেশি ক্রিকেটার কোটা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশীয় ক্রিকেটাররা। এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশের সব ক্রিকেটারই থাকবেন দেশীয়। তাতে খুশি ক্রিকেটাররা। দলবদল করতে এসে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফুলরা বিদেশি ক্রিকেটারের কোটা তুলে দেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন।
গতকাল দ্বিতীয় দিনে দলবদল করেছেন ২০ ক্রিকেটার। পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবে দুই জন, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে একজন, ব্রাদার্স ইউনিয়নে তিন জন, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে পাঁচ জন, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে একজন ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সে আট ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করেছেন। আজ দলবদলের শেষ দিন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সিলেটে দলবদল করবেন। একই সঙ্গে মিরপুরেও চলবে দলবদলের কার্যক্রম।
এবার প্রিমিয়ার লিগে বিদেশি ক্রিকেটার না রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে মনে হয় অবশ্যই ইতিবাচক। বোর্ডকে এবং সিসিডিএমকে সাধুবাদ দেওয়া উচিত। অন্তত একটা খেলোয়াড় পারফর্ম করার সুযোগ পাবে। আমার কাছে মনে হয় এটা অনেক বড়ো একটা সুযোগ, যে সুযোগ পাবে তার জন্য।’
ইমরুলও বিদেশি ক্রিকেটার আনার পক্ষে নন। গতকাল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে নাম লেখানোর পর অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ওপেনার বলেছেন, ‘অবশ্যই ইতিবাচক কারণ আমি বলবো যে বাংলাদেশের মান এখন আর ঐ রকম নেই যে বিদেশি প্লেয়ার এনে মান বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন এত ভালো ভালো মানসম্পন্ন প্লেয়ার হয়ে গেছে যারা আসলে অন্য বিদেশিদের কাছাকাছি। তাই একটা প্লেয়ার খেলার সুযোগ পাবে বাড়তি।’
এই নিয়মের কারণে দেশীয় ক্রিকেটারদের সুবিধা দেখছেন পেসার রুবেল হোসেন। এক মৌসুম পরই প্রাইম ব্যাংকে ফিরে আসা ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অবশ্যই ভালো। কারণ বিদেশি প্লেয়ার থাকলে একটা লোকাল প্লেয়ার ড্রপ যেত। আমার কাছে মনে হয় এটা অবশ্যই লোকাল প্লেয়ারদের জন্য সুবিধা, দেখা যাক এই বছর হয়তোবা প্রথম শুরু করেছে।’
আশরাফুল দেখছেন, বিদেশি না থাকায় লিগের ১২টি ক্লাবে ১২ জন দেশীয় ক্রিকেটার সুযোগ পাবে। তিনি বলেছেন, ‘এটা আমি মনে করি যে খুবই ভালো। কারণ এখন আমাদের বারোটা প্লেয়ার খেলতে পারত না যদি বিদেশি থাকতো। সেই জায়গায় বারোটা প্লেয়ার খেলতে পারছে। একদিক থেকে আমি মনে করি যে ভালো বিদেশি না থাকাটা। বারোটা প্লেয়ারের সুযোগ হয়েছে।’
গতকাল মুমিনুল-সৌম্যদের সঙ্গেই গাজী ক্রিকেটার্সে যোগ দিয়েছেন যুব বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলী। সিনিয়র ক্রিকেটে এসে শেখার দিকেই নজর দিচ্ছেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘আমি খুবই এক্সাইটেড যে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পারব। তো এটা আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আশাকরি অনেক কিছু শিখতে পারব।’
