ডিবির পোশাকে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ২২:১২

চক্রের প্রধানসহ ছয় সদস্য গ্রেফতার, বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও ডিবির জ্যাকেটসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে মোস্তফা কামাল ওরফে লিটন। এর পর ২০০৮ সালে একটি সংঘবদ্ধ দল তৈরি করে। ঐ দলটি ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে। সংঘবদ্ধ হওয়ার পর ঐ দলটি পরিকল্পনা করে ডিবি সেজে ডাকাতি করবে। প্রথমে চুরি ও ছিনতাইয়ের টাকায় সংগ্রহ করে বিদেশি অস্ত্র, ডিবির জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফসহ পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জাম। একপর্যায়ে ডিবির পোশাক পরে হয়ে উঠে ভয়ংকর ডাকাত। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর তুরাগের ধউর এলাকায় এই চক্রের প্রধানসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হলো—চক্রের প্রধান মোস্তফা কামাল ওরফে লিটন, শাহাব উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন, আলমগীর শেখ ও শফিকুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, চারটি চাপাতি, চারটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি ডিবি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, ডিবি পুলিশের দুটি ভুয়া আইডি কার্ড ও ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গতকাল র্যাব-১-এর এএসপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ রাব্বি এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, মোস্তফা কামাল ওরফে লিটন ডাকাত চক্রের অন্যতম হোতা। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ২২টি মামলা রয়েছে। লিটনের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল গ্রেফতার হওয়া শাহাব উদ্দিন। আরো সাত-আট জনকে নিয়ে এই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি গঠন করে তারা। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার পরও দিন দিন আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

এএসপি সালাহ উদ্দিন আরো জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তারা ১৫০টিরও বেশি ডাকাতি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার রাতে তুরাগ এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় দেখা যায় যে, ধওর বেঁড়িবাধ এলাকায় একটি মাইক্রোবাস হতে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় ৮/১০ জনের একটি দল রাস্তায় গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত র্যাব-১-এর টহল দলের কাছে সন্দেহ হলে তারা দ্রুত মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। প্রথমত তাদের দলের এক-দুই জন ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাইরে, দুই-তিন জন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। ভেতরের এক জন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাইরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি তারা মোবাইলের মাধ্যমে মূল দল বাইরে অবস্থানরত দলকে জানায়। পরে মাইক্রোবাসটি পেছন থেকে অথবা কখনো সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে ভিকটিমের গতিরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভিকটিমকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়ির ভিতরে ভিকটিমকে চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

এছাড়াও এই চক্রের সদস্যরা রাস্তায় সাধারণ যাত্রীকে প্রথমে টার্গেট করে। তারপর ভিকটিমদের কাছে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তোলে। প্রাইভেটকারে উঠানোর পর ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।