পালটাপালটি বহিষ্কারের ঘটনায় গণফোরামে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল বুধবার নিজের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়ে ড. কামাল বলেছেন, ‘পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত ড. কামাল হোসেন সভাপতি ও ড. রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব পালন করবেন। তারা দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে কামাল হোসেন বলেন, ‘গণফোরামের কাউন্সিলের পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল তিন থেকে চার জন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দমতো কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে সভাপতির অনুমোদন গ্রহণ করেন। কিন্তু ঐ কমিটির নেতৃত্বে দলে গতি সৃষ্টির পরিবর্তে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। গণমাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা মেনে নেওয়া যায় না এবং চলতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, চলতি মাসেই আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনতান্ত্রিক সব ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার রাখবে। জেলা, থানা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে গণফোরামে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়। ঘটে পালটাপালটি বহিষ্কারের ঘটনা। সর্বশেষ গত সোমবার গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ ীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেলালউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক আবদুল হাছিব চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন অর্থাত্ মঙ্গলবার এই বহিষ্কৃত চার জন দলটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সহসভাপতি মহসীন রশীদ ও শফিকউল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। তবে কোনো বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতেই দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের স্বাক্ষর ছিল না।
