যে পথে হেঁটেছি এতকাল, সহসা তাকিয়ে দেখি ভুল পথ
ভুল পথে হেঁটে হেঁটে
ভুলের মাসুল বেড়ে গেছে ঢের
তবুও হয়নি যাওয়া গন্তব্যে আমার!
এই পথ কর্দমাক্ত, ভেজা ও পিচ্ছিল,
হতচ্ছাড়া পথে ও বিপথে ঘুরে
অতঃপর এ কোন নিঝুমপুরে দাঁড়িয়ে রয়েছি!
চারদিকে ভাঙাবাড়ি, ছিন্নভিন্ন গাড়ির বনেট,
ডাস্টবিনে মাথাকাটা মানুষের দেহ, কংক্রিটের কঙ্কাল,
পশু ও মানুষের পুঁতি-গন্ধময় বাতাসের হাহাকার
এ কোন নিঝুমপুরে ঝিমধরা প্রখর দুপুরে
আমি যেন আমি নই, দিক্ভ্রান্ত উদাসীন পথিকের ছায়া
ভুল পথে হেঁটে হেঁটে এ কোন অচেনা শহর
আমার সামনে এসে সহসা দাঁড়ালো!
যেন কোনো প্রাগৈতিহাসিক ধ্বংসস্তূপ
যেন প্রাচীন গ্রিকের এক বিধ্বস্ত নগরী
যেন ট্রয় নগরীর বিপন্ন আর্তনাদ, নালন্দার ব্যর্থ চিত্কার
এ যেন প্রেতের হাতছানি, মৃতদের জীবন্ত কোরাস!
ভুল পথে হেঁটে হেঁটে
এ আমি কোথায় এলাম? এ কেমন গন্তব্য আমার?
২.
মানব শরীর থেকে জন্ম তার, সেকথা নিশ্চিত।
মানুষ যেখানে যায় ছায়া তার পাশাপাশি চলে
কে কার হাড়ের থেকে কোন কালে জন্ম নিয়েছে
কিংবা আদৌ জন্ম নিয়েছে কিনা সেটা কোনো বড়ো
কথা নয়, প্রকৃত সত্য হলো, মানুষ যেখানে
যায়—ছায়া যেন যুগল দম্পতি, পাশাপাশি চলে
আমিও যেখানে যাই, ছায়া দেখি সঙ্গ ছাড়ে না
পাশাপাশি চলে, কখনো কানের পাশে অচেনা ভাষায়
কথা বলে, যেন প্রাগৈতিহাসিক শিলালিপি গাঢ় অন্ধকারে
গনগনে মধ্যদুপুরে যা শুধু মিলিয়ে যায় আমার শরীরে!
৩.
আমার শরীর থেকে
নিঃসঙ্গ আমাকে ফেলে
শীর্ণকায় ছায়া এক সহসা উধাও!
ছায়ার ভেতরে ছিল মায়া
অলৌকিক আলোর মহিমা
আমাকে নিঝুমপুরে একা ফেলে প্রখর দুপুরে
সহসা তাকিয়ে দেখি, আমার স্যাডো—
আমার শরীর থেকে দূর যাত্রা করে!
