৬৮ বছরের অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দুই বছর আগে জমির মালিকানাসংক্রান্ত মাঠ খতিয়ান ও নকশা পেলেও আরএস খতিয়ান না পাওয়ায় জমির ভাগ-বণ্টনসহ জরুরি প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছে না কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দারা। এছাড়া ভোগদখলকৃত জমির অন্যের নামে রেকর্ডসহ জমি নিয়ে নানা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি এখনো। ফলে প্রতিনিয়ত জমিসংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে ছিটমহল বাসিন্দাদের। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ গেজেট সম্পন্ন হলেও এ সমস্যার সমাধান কবে হবে তা নিয়ে অজানা শঙ্কায় রয়েছেন তারা। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা নুর আলম, আব্দুল করিম, আফসার আলী জানান, বিগত চার বছরে সরকারি-বেসরকারিভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে সংঘটিত হয় নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। বিদ্যুত্সংযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা স্থাপন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হলেও জমির মালিকানার হালনাগাদ কাগজপত্র না পাওয়ায় তাদের জমিসংক্রান্ত মূল সমস্যা এখনো কাটেনি। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আরএস খতিয়ান না পাওয়ায় এবং গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় দাসিয়ারছড়াবাসী জমি কেনাবেচা করা থেকে এখনো বঞ্চিত। জমি কেনাবেচা করতে না পারায় ছেলেমেয়েদের বিয়ে, পড়াশোনার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিত্সাসহ নানামুখী সমস্যায় রয়েছি আমরা।’ সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, তার নিজের ভোগদখল করা জমি একটি চক্র তাদের নামে অজান্তে রেকর্ড করায় এখন এই জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, দাসিয়ারছড়ায় তার মতো অর্ধশত ভূমির মালিক এ ধরনের জটিলতায় পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মাছুমা আরেফিন জানান, দাসিয়ারছড়ার মৌজার ৩২৭৫টি আরএস খতিয়ানের গেজেট কপি হাতে পেয়েছি। পার্শ্ববর্তী মৌজার কর নির্ধারণ করে অতি সত্বর ভূমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে দাসিয়ারছড়াবাসীর সব প্রতিবন্ধকতা শিগগির নিরসন হবে বলে আমার বিশ্বাস। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হওয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল দুই দেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয়।
