সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউজের ওপরে একটা ঘড়ি আছে।
টিকটিক করে প্রতি মুহূর্তে সময় জানিয়ে দিচ্ছে সে। সেই ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা। জিম্বাবুয়ে দল অনুশীলন শেষ করে মাঠ ছাড়ে। বাংলাদেশ দল মাঠে আসবে আরো দুই ঘণ্টা পর। ঠিক এমন একটা সময় তিনি মাঠে ঢুকলেন। এক প্রান্তে একটা বোতল রেখে চিহ্ন দিলেন; তারপর শুরু করলেন প্রবল দৌড়।
দৌড় শেষ করে এক জন সহকারী নিয়ে হেঁটে এলেন নেটে। স্বাভাবিক যে ব্যাটিং অনুশীলন, তা খুঁজে পাওয়া গেল না।
বলে বলে সামনে এগিয়ে এলেন। যে বলটা ব্যাটে নিতে পারলেন না, সেটার প্রতি ক্ষোভ ঝাড়লেন। আর যেটা ব্যাটের ছোঁয়া পেল, সেই বলকেই সপাটে হাঁকিয়ে মাঠ ছাড়া করে ফেললেন। যেন কী এক অদৃশ্য ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলতে চাইলেন ব্যাট দিয়ে।
হ্যাঁ, ক্ষোভে আজ ফুঁসতে থাকারই কথা মুশফিকুর রহিমের। কারণ, এমন অন্যায়ের শিকার এর আগে কখনো হতে হয়নি। বিনা কারণে আজ মাঠের বাইরে থাকতে হবে দেশসেরা এই ব্যাটসম্যানকে।
এমন ঘটনা মুশফিকের ক্রিকেট জীবনে এর আগে কখনো ঘটেনি। সুস্থ আছেন, দলে আছেন; কিন্তু বিশ্রামের আড়ালে একাদশ থেকে কখনো বাদ পড়েননি। অসুস্থতায় দলের খেলা মিস করলেও সুস্থ মুশফিককে ড্রেসিংরুমে বসে কখনো খেলা দেখতে হয়নি। এবার সেটাই হচ্ছে।
কেন এমন হচ্ছে?
ঘটনাটা হয়েছে মুশফিক পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায়। তাকে ছাড়া দুই দফা পাকিস্তান সফর করে এসেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু দুরন্ত ফরমে থাকা মুশফিককে ছাড়া আরেক দফা যেতে চাচ্ছে না বোর্ড। তাই তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান না গেলে শেষ ওয়ানডে খেলতে পারবেন না। মুখে বলা হচ্ছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তান সফরের একাদশই খেলানো হবে।
এখনো সেই সফরের একমাস বাকি। এখনই সেই একাদশকে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে হবে? এর মধ্যে যে ঢাকা লিগ আছে, সেগুলো প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট হতো না? এই বিব্রতকর প্রশ্নের সামনে কাল বিদায়ি অধিনায়ক মাশরাফিকেও পড়তে হলো। তিনি একটু কৌশলী হলেন। তিনি কোনো পক্ষকে দোষারোপ করলেন না। কিন্তু মুশফিকের মতো ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ছেলেখেলা যে করা উচিত না, সেটা পরিষ্কার বলে দিলেন।
মুশফিককে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলছিলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মুশফিক এমন এক জন খেলোয়াড়, কখনো যদি ব্যাড প্যাচও যায় তার পরও যে পরিমাণ রান সে করেছে, বাংলাদেশের জেতার পেছনে তার অবদান এসব চিন্তা করতে হবে। সবকিছু যদি বিবেচনার জায়গায় আনেন তাহলে যে ছেলেটা পারফরম করে আসছে, ১২/১৩ বছর বাংলাদেশের হয়ে খেলেছে, সে যাতে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে না থাকে একটা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত তা খেয়াল রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।’
তবে মাশরাফি মনে করেন, মুশফিকের সঙ্গে আলাপ করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, ‘তবে এই যে প্রক্রিয়া সেটি যদি মুশফিকের সঙ্গে নরমভাবে আলোচনা করা হয়, মুশফিককে যদি বোঝানো সম্ভব হয় যে এটা হচ্ছে আমার প্রক্রিয়া তোমার ধারণাটা কী? তখন যদি দুই পক্ষ একটা জায়গায় আসতে পারে তখন ব্যাপারটা হয়তো ঠিক আছে।’
