ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরেছে সাড়ে চার শতাধিক প্রাণ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২০, ২২:২৯

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৮৭টি। এতে নিহত হয়েছেন ৪৬৩ জন এবং আহত ৯৪৮ জন। নিহতের মধ্যে শিশু ৫২ এবং নারী ৬৭ জন। এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০৭ জন, যা মোট নিহতের ২৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ২৬.৩৫ শতাংশ। গতকাল রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানিয়েছে। ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৪টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনটি এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

 প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৯ শতাংশ। বাস যাত্রী ৩৯, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস যাত্রী ৩৪, ট্রাক ও পিক-আপ ভ্যান যাত্রী ২৫, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১১২ ও অন্যান্য যানবাহনে ১১ জন নিহত হয়েছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩২৯ জন, অর্থাত্ ৭১.০৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনাগুলো আঞ্চলিক সড়কে ২৩৬টি যা ৬১শতাংশ এবং মহাসড়কে ১৫১টি, যা ৩৯ শতাংশ ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৭৮টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা উলটে ৮৬, সাইড দিতে গিয়ে ৬০ এবং চাপা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩৬টি। অন্যান্য কারণে ২৭টি।

দুর্ঘটনায় দায়ী যানবাহনের সংখ্যা ৫৮৪। এরমধ্যে বাসা ৮৭, ট্রাক ও পিক-আপ ১০৪, কাভার্ডভ্যান ২১, লরি ও ট্রাক্টর ১৪, কার ও মাইক্রোবাস ৪৩, মোটরসাইকেল ১০২, বাইসাইকেল ১৩, রিকশা ২৮, নসিমন-করিমন-আলমসাধু-মাহেন্দ্র ১১৭, ইজিবাই ৩৮, ট্রলি ৪ ও অন্যান্য ১৩। ৪৭টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪ এবং আহত ১৭ জন। ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৩৯ আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেখা গেছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি; গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা সবই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৫ জন নিহত ও ৮৩৪ জন আহত হয়েছিল। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুঘর্টনা প্রতিরোধে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।