সরকার দলীয় সাবেক এমপি ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রীর জামিন নাকচ করার পর জেলা ও দায়রা জজকে তাত্ক্ষণিক বদলি এবং পরক্ষণেই স্থলাভিষিক্ত নতুন বিচারক তাদের জামিন দেওয়ার ঘটনা বিচারবিভাগের স্বাধীনতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঐ ঘটনায় আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। অন্যদিকে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা প্রশমিত করার জন্যই জেলা জজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আইনমন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন। আবার তিনি মনে করছেন এখানে আইনের শাসনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। আসক মনে করে এ ঘটনার মাধ্যমে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মন্ত্রী বিচারকের আচরণ নিয়েও মন্তব্য করেন। বিচারককে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিচারবিভাগের ওপর সরকারের প্রভাবসংক্রান্ত জনমনে যে ধারণা বা উদ্বেগ বিদ্যমান রয়েছে তা আরো দৃঢ় হয়ে উঠলো।
বিবৃতি বলা হয়, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের দশক পার হয়ে গেলেও এখনো বিচার বিভাগ কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছে তা এ ঘটনায় আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আসক মনে করে, সরকারের উচিত এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের চিহ্নিত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যাতে এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।
