অর্থনীতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে --------- ড. আহসান এইচ মনসুর

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ০০:৪২

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক ভালো অবস্থায় নেই। কম রাজস্ব আদায় হওয়ায় সরকারের ব্যাংক ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনীতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে এক কর্মশালায় তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া ও সরকারের ব্যাংক ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪৮ বছরে ব্যাংক খাতে সরকারের যে পরিমাণ ঋণের দায় রয়েছে, চলতি অর্থবছর তা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কেন না এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় হচ্ছে না। কিন্তু সরকারকে ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।

ফ্রেডরিক ন্যুম্যান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘সামষ্টিক অর্থনীতি ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ’ শীর্ষক ঐ কর্মশালার আয়োজন করে যৌথভাবে অর্থনীতির সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও পিআরআই। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক প্রমুখ।

এনবিআরের রাজস্ব কাঠামো ও বিদ্যমান কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এনবিআরকে বর্তমান অবস্থায় রেখে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দিনে দিনে জিডিপিতে রাজস্বের অবদান কমছে। সর্বশেষ হিসেবে জিডিপিতে রাজস্বের অবদান নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে। বিদ্যমান কর ব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন ড. এম এ রাজ্জাক। বিশ্বব্যাপী রপ্তানি বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে এখন থেকেই কার্যকর আলোচনা শুরু করার তাগিদ দেন তিনি।