সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
সরাইলের উত্তর প্রান্তে ১০ বছর আগে এলজিইডি সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি নির্মাণ করে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পাকা সড়কটি উপজেলার চুন্টা, পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউনিয়ন এবং নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ও কুন্ডা ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র সড়ক। কিন্তু নির্মাণের পর সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বেহাল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির পাকা অংশের প্রস্থ ছিল ১২ ফুট। কিন্তু এখন দুই পাশ ভেঙে কোনো কোনো স্থানে এখন এর প্রস্থ আছে পাঁচ-ছয় ফুট। কোনো কোনো এলাকায় মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এতে বিপরীতমুখী দুটি অটোরিকশাও অতিক্রম করতে পারে না। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ, সরাইল সরকারি কলেজ, সরাইল মহিলা কলেজ, অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী ট্রাক্টর, মিনি ট্রাকসহ সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে। কারণ এটি ঐ এলাকার একমাত্র সড়কপথ।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল কুদ্দুস ও আজিজ মিয়া বলেন, তাদের যাত্রীর অভাব হয় না। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অনেক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। আগে এই সড়ক পাড়ি দিতে মাত্র আধা ঘণ্টা সময় লাগত। এখন এই পথ পাড়ি দিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা চলে যায়।
অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, গত ১০ বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হচ্ছে না। নাজুক সড়কের কারণে প্রসূতি, নবজাতক, মুমূর্ষু রোগী, শিক্ষার্থী এবং নিত্য চলাফেরা করা নানা শ্রেণি পেশার মানুষগুলোকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে বিপাকে আছি। এর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা কাজ করছেন না। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরাইল-অরুয়াইল সড়ক সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
