বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলার মতো হাজারটা বিষয় আছে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২১:৫৫

মাহবুবুল হক ইকবাল

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিক কিংবা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বক্তারা ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’, ‘শতাব্দীর মহানায়ক’ অর্থাত্ বিভিন্ন বিশেষণে বঙ্গবন্ধুকে অভিহিত করা ছাড়া বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনায় ঢুকতে পারেন না। যাঁরা পারেন তাঁদেরও ডাকা হয় না। অথচ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলার মতো হাজারটা বিষয় আছে। শুধু ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের ভাষণ নিয়ে আলোচনা করে ১৮ দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। এই ভাষণটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলে  বোঝা যায় প্রত্যেকটি শব্দই দেশি এবং আঞ্চলিক, যা সহজে বোধগম্য। প্রত্যেকটি বাক্যই ব্যাকরণসিদ্ধ। ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা চাই; যেমন ১. আকাঙ্ক্ষা, ২. আসত্তি এবং ৩. যোগ্যতা। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রত্যেকটি বাক্যই এই তিনটি গুণবিশিষ্ট। রীতিসিদ্ধ অর্থ আছে। দুর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার নেই। বাহুল্য এবং গুরুচণ্ডালী দোষেও দুষ্ট নয়।

বঙ্গবন্ধু জানতেন কোন পরিস্থিতিতে কখন কী বলতে হবে। ফাঁসির দড়ি তিনি পরোয়া করেননি। জেল ছিল তাঁর ৩২ নম্বর বাড়ির বর্ধিত ভবন। স্বাধীনতা নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখেছেন, কিন্তু তাঁরা দেখেছেন ঘুমিয়ে আর বঙ্গবন্ধু দেখেছেন জেগে। স্বাধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি এতটাই তাগিদ অনুভব করেছেন যার বহিঃপ্রকাশ ছিল ৬৬-এর ছয় দফা। আপাতদৃষ্টিতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও প্রকারান্তরে ছিল স্বাধীনতা। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর তিন  নেতার মাজার প্রাঙ্গণে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর একটি ঘোষণা—‘আজ থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তান না, শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।’ আর ৭ই মার্চের ভাষণের ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই পঙিক্ততে স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ক ভাবটি কি পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়নি? রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—

‘মিথ্যারে রাখিয়া দিই মন্দিরের মাঝে

বহুযত্নে তবুও সে থেকেও থাকে না।

সত্যেরে তাড়ায়ে দিই মন্দির বাহিরে

অনাদরে, তবুও সে ফিরে ফিরে আসে।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কতভাবেই না আলোচনা করা যায়। উপাদানের তো অভাব নেই। সেজন্য বঙ্গবন্ধু রচিত এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলি পাঠ করতে হবে।

মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের আগেভাগেই আলোচক কিংবা বক্তা নির্বাচন করতে হবে। বক্তব্যের বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। বক্তব্য প্রদান করতে হবে প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি, ঐতিহাসিক সাল এবং ঘটনাভিত্তিক। প্রয়োজনে এর একটা গাইড লাইনও তৈরি করা যেতে পারে। এই দায়িত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির ওপর বর্তায়।

বরিশাল