সাফল্যের অপর পিঠে দুর্নীতি

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২১:৫৫

বিপ্লব বিশ্বাস

 

এক সময়ের ’তলাবিহীন ঝুড়ি’, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্যোগের দেশের অপবাদ কাটিয়ে সত্যিই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, রোহিঙ্গা সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা ধরনের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে। কৃষি, বিদ্যুত্, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ফলে মাথাপিছু আয় যেমন বেড়েছে তেমনি দরিদ্রতার হারও দিন দিন কমছে। দেশের সাধারণ মানুষ খালি চোখেই বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুফলও ভোগ করছে।

এই ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সর্বত্রই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাও বিরাজ করছে। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে বিকৃত মানসিকতা। এই পরিস্থিতির জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য বা বিচারের দীর্ঘসূত্রতাই দায়ী নয় বরং সমাজে অপরাজনীতির প্রভাব, কোচিং ও পাস নির্ভর মূল্যবোধহীন শিক্ষাব্যবস্থা, ইন্টারনেটভিত্তিক অপসংস্কৃতির প্রভাব অনেকাংশে দায়ী। তবে এইসব অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড়ো কারণ হলো দুর্নীতি।

একদিকে অর্থবিত্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব আর অন্যদিকে দুর্নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। দুর্নীতি ও  বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনার কথাও। দুর্নীতির কারণেই কঠোর অভিযান পরিচালনা করেও দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকায় যাদেরকে দুর্নীতির গডফাদার হিসেবে  চেনে বা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও যাদের দুর্নীতির বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে, তারা প্রবল প্রতাপেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

কাজেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌছে দিতে হলে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অবশ্যই মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি। একইসঙ্গে সারাদেশে সাধারণ মানুষকে অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। সামাজিক অপরাধ একমাত্র সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সকল স্তরের শিক্ষার্থীকে সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখতে হলে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিকল্প নেই। একমাত্র সচেতন ও মূল্যবোধ সম্পন্ন যুবসমাজই সকল অন্যায়, অবিচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে।

ফরিদপুর