বই-খাতা নিয়েই ফুটবল ক্যাম্পে কুমিল্লা ইউনাইটেড

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২১:৫৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

নারী ফুটবল লিগের খেলা চলছে ঢাকায়। সাত দলের লড়াইয়ে খেলছে কুমিল্লা ইউনাইটেড, এই দলের প্রায় সবাই ফুটবল খেলার পাশাপাশি লেখাপড়াও করছে। ফুটবল খেলা এবং লেখাপড়া একসঙ্গে চলছে। গোপীবাগে বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের মাঠে বিকালে অনুশীলন করেই সন্ধ্যায় বই নিয়ে বসতে হয়। বিছানার উপর বই রেখে পড়ায় ব্যস্ত থাকেন ফুটবলাররা।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে কুমিল্লা ইউনাইটেডে। কুড়িগ্রামের রায়গঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মুক্তা। বাবা বাস চালক। ফুটবল খেলার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। কাল বিকালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে বসে মুক্তা বলছিলেন তাদের দলের সবাই ফুটবল খেলছে লেখাপড়াও করছে। বইপুস্তক নিয়ে ঢাকায় এসেছেন।

খেলাটার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-কলেজের পড়াটাও রেডি রাখছেন। ঈদগা গার্লস হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তার। ফুটবল খেলা এবং পড়াশোনা করাটা কঠিন হলেও করতে হয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো ফুটবল খেলাটা পেশা হিসেবে নিয়েছি। এই খেলাটা খেলতে পারলে আমাদের ভবিষ্যত্ খুব ভালো হবে, সেটা বুঝতে পেরেই কষ্ট করছি।’

মুক্তার ডান পায়ের গোড়ালি ফোলা। প্রথম দফায় হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেও দ্বিতীয় দফায় মাঠে নেমে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে এখন মাঠের বাইরে। তারপরও সেখান থেকে চিত্কার করে মাঠের খেলোয়াড়দের উত্সাহ দিচ্ছিলেন সুমি আক্তার। নীলফামারীর আইরিন অনার্স পড়ছেন বলে জানালেন কুমিল্লা ইউনাইটেডের সাধরণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাহার।

কুমিল্লার দাউদকান্দির জুরানপুর গ্রামের দল হলেও কুমিল্লার কোনো ফুটবলার নেই। কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, নীলফামারী, মানিকগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও হতে মেয়েদের এনে গড়া হয়েছে। বাহার বললেন, ‘কুমিল্লায় নারী প্লেয়ার নেই। যারা আছে তাদের বয়স কম। আমরা আগামীতে ছেলেদের ফুটবল দল গড়ব।’

রুমকি, আইরিন, ইয়াসমিন, সন্ধ্যা, তাপসী, সুমী, অনি স্নিগ্ধা, আশামনি, মীরা বানু, মুক্তা, তারামনি, শিল্পী, লিসা, জয়ন্তী, রিচি, আফরিন, শারমিন, শাবনূর, মুন্নী সাহা, মনি, বিথিকা কিসকুদের নিয়ে গড়া দল টানা তিন ম্যাচ হারল। গতকাল ছিল তৃতীয় ম্যাচ। কমলাপুর স্টেডিয়ামে স্বপ্নার গোলে বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাব হারিয়েছে কুমিল্লা ইউনাইটেডকে। প্রথম দুই ম্যাচে বড়ো ব্যবধানে হেরেছিল।