বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের চিকিত্সাসেবা প্রদানে সেনাবাহিনী অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন তিন পার্বত্য জেলায় ১৭ হাজার ৯১০ জনকে শীতবস্ত্র বিতরণ, ১৫ হাজার ৬৮৭ জনকে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণসামগ্রী ও ৭ হাজার ২২৪ জনকে বিভিন্ন আর্থিক অনুদান প্রদান করে। সেনাবাহিনী কর্তৃক ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, ১২৩টি ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, ৪৮টি যাত্রীছাউনি, ব্রিজ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ ও ২৭টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।
এছাড়া সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা উপকরণ, ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ড্রেস ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করে। পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিন বিতরণসহ ওই বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রদান করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০১৯ সালে ১৩টি বিনামূল্যে চক্ষু শিবির পরিচালনা করে। এসব চক্ষু শিবিরে দুর্গম পার্বত্য এলাকার সুবিধাবঞ্চিত বয়োবৃদ্ধ পাহাড়ি ও বাঙালির চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন ধরনের চক্ষুসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে গুইমারা, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান রিজিয়নে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতি ও বাঙালিদের বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা প্রদান করে থাকে। এই চিকিত্সাসেবার আওতায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিগত বছরে সর্বমোট ৯৯ হাজার ১৬৬ জনকে বিনামূল্যে নানাবিধ চিকিত্সাসেবা প্রদান করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিত্সাসেবায় সেনাবাহিনীর এই সহায়তা সবসময় চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। —আইএসপিআর
