মশক নিধনে নেই কোনো দৃশ্যমান তত্পরতা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২২:২৯

মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে অধিকাংশই মশককবলিত। রাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মশার বেপরোয়া আক্রমণে নগরবাসী অতিষ্ঠ। দিনেরবেলাতেও মশার দল আক্রমণ করছে মানুষকে। কয়েল জ্বালিয়ে, নানা ধরনের কীটনাশক ঘরের কোণায় কোণায় ছিটিয়েও পরিত্রাণ মিলছে না মশার আক্রমণ থেকে। ঘরের বাইরে বদ্ধ ডোবা-জলাশয়, নালা-নর্দমা ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালের স্থানে স্থানে মশক প্রজননের যেন মহোত্সব চলছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত মহানগরীর জনবসতিগুলোর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে মশার ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম নেই বলে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের দাবি- ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তবে সীমিতভাবে। তবে ফগার, স্প্রে মেশিনের স্বল্পতা এবং লার্ভিসাইট ও এডাল্টিসাইটের পর্যাপ্ত মজুত না থাকার কথাও জানা যায় করপোরেশনের নির্দিষ্ট বিভাগের সূত্র থেকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি বছর চট্টগ্রাম মহানগরীতে মশক নিধন কার্যক্রমে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হলেও দেখা যায়নি কোনো ধরনের দৃশ্যমান তত্পরতা। অথচ অর্থবছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র দুই আড়াই মাস। গত বছর দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ উত্পাত বাড়লে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আউটডোর ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়নি। ঘরে ঘরে মশানাশক কৌটার স্প্রে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও, সবাই তা পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম যিশু ইত্তেফাককে বলেন, জনগণ সচেতন না হলে, সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে পুরো মহানগরীতে মশার উত্পাত দমন করা সম্ভব নয়। মশার ওষুধ ছিটানো বন্ধ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, কিছু কিছু স্থানে সীমিত সংখ্যক কর্মী মশার ওষুধ ছিটাচ্ছে। এছাড়া করপোরেশনের স্টকে ওষুধের পরিমাণ পর্যাপ্ত নেই। ওষুধ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের প্রেসিডেন্ট শরিফ চৌহান ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর প্রান্তিক ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডে মশার উত্পাত গত প্রায় এক মাস ধরে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মশার উত্পাতে সন্ধ্যার পর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় ঘটছে ব্যাঘাত।

আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার অধিবাসী মো. রেজাউল হোসেন টিপু ইত্তেফাককে বলেন, মশার উত্পাতে আগ্রাবাদ এলাকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন, মনে হচ্ছে এ কারণে কাউন্সিলররা যেমনি মশা নিধনে মনোযোগ দিচ্ছেন না, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।