এনআইডি সেবা নিতে গেলেই শুনতে হচ্ছে ‘সার্ভার নাই’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২২:৩৬

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন  ভোটারের বিশাল তথ্যভান্ডার থাকলেও অদৃশ্য কারণে তাতে সংযুক্ত হওয়া যায় না। তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সাধারণ সেবা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। যদিও ইসি বলছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে নির্বাচন ভবনে সার্ভারটি স্থানান্তরের কারণে সংযোগে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এনআইডি সেবা নিতে যাওয়াদের বড়ো একটি অংশের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিদিনই শুনতে হয়—‘সার্ভার নাই’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের অপারেশন প্ল্যানিং এ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে নির্বাচন ভবনের দশম তলায় সার্ভার শিফট করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ তিন দিন হয়তো সার্ভারের সমস্যা হতে পারে। এরপর আর সংকট থাকবে না বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

তবে ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন সার্ভার শিফটের কারণে সমস্যা হচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে এই সংকট। দিনে কখনো সার্ভার থাকে আবার কখনো থাকে না। সার্ভার না থাকার কারণে হাজার হাজার ফাইল বিভিন্ন কর্মকর্তাদের টেবিলে জমা পড়ে আছে। তবে ভিআইপি সেবার ক্ষেত্রে ঠিকই কিন্তু সার্ভার থাকে। এটি নিয়ে ক্ষোভ ইসির সংশ্লিষ্টদের।

গত ২ মার্চ ছিল জাতীয় ভোটার দিবস। ২০১৯ সালে এই দিবস ১ মার্চ পালন করা হলেও এবার প্রথম ২ মার্চ পালন করা হয়। আগামীতে প্রতি বছর ২ মার্চ দেশব্যাপী জাতীয় ভোটার দিবস পালন হবে। জাতীয় ভোটার দিবসের দিনে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনের নিচে এনআইডি সেবা নিতে আসা বেশকিছু ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের কাছে জানতে                 চাওয়া হয় ভোটার দিবসে তাদের চাওয়া নিয়ে। এ সময় ভোটাররা নানা অভিযোগ করেন। অনেকে বলেন, ভোটার দিবসের দিনও ইসির সার্ভার ঠিকভাবে কাজ করেনি। অনেক হারানো এনআইডি, সংশোধনীর তথ্য জানতে এসেও কোনো তথ্য পাননি। ভোটারদের প্রশ্ন ভোটার দিবসের দিনেও ইসির সার্ভার কাজ না করলে কীভাবে হবে?

‘সার্ভার নাই’—ইসিতে উচ্চ স্বরে বহুল কথিত দুটি শব্দ। এনআইডির কোনো সেবা নিতে গেলে আগেই বলা হয়, সার্ভার আছে কি না তা দেখতে হবে। সার্ভার থাকা সাপেক্ষে এনআইডি সেবা মেলে। অথচ প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার এনআইডি সেবাগ্রহিতা শুধু ‘সার্ভার নাই’ এই একটি কারণে ফিরে যেতে হয়। ইসির অশুভ একটি চক্র ‘সার্ভার নাই’—এই স্লোগান তুলে নিজের অসত্ কার্যক্রম ঠিকই পরিচালনা করে যাচ্ছেন—এমনটাই মন্তব্য ইসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তারা আরো বলেন, এমনকি কোনো ভিআইপি সেবা নিতে এলে তখন সার্ভার থাকে ঠিকই।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে দেশের সকল ভোটারের তথ্যভান্ডার সংরক্ষিত নির্বাচন কমিশনে। যারা ভোটার তাদের হাতে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র। টাইগার আইটি নামক একটি প্রতিষ্ঠান ইসিকে সফটওয়্যার সরবরাহ করে আসছে। এই সফটওয়্যার নেওয়ার জন্য কমিশনকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়। এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন জানান, সার্ভারের বিষয় আমি বলতে পারব না। সহজে এনআইডি সেবার জন্য পরিশ্রম করছে ইসির সংশ্লিষ্টরা।