কুয়েতে যাওয়ার আগে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করায় যেসব বাংলাদেশি বিপাকে পড়েছিলেন, তাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে। কুয়েত সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার কুয়েতের মন্ত্রিসভা আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার দেশটির সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ঢাকায় তাদের দূতাবাস থেকে একটি সনদ নিয়ে তারপর সে দেশে যেতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে ঐ যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন।
এদিকে কুয়েতের এই সিদ্ধান্ত বদলের আগেই ঢাকায় কুয়েতগামীদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে আজ শনিবার থেকে সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে কুয়েত সিদ্ধান্ত বদলানোয় এখন আর এই পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
তিন নাবিক করোনায় আক্রান্ত নন
গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, তরুণরা করোনায় বেশি আক্রান্ত হলেও মৃতের হার বয়স্কদের মধ্যে বেশি। তিনি বলেন, মোংলায় ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা কয়লার জাহাজে করোনা সন্দেহে থাকা ফিলিপিন্সের তিন নাবিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। এদের মধ্যে দুজনের এখন জ্বর নেই। একজনের জ্বর আছে। তবে তাদের এখনো আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এই নাবিকরা ১৪ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে রওনা হয়েছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি তারা সিঙ্গাপুরের জলসীমায় আসেন। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে এসেছেন।
সতর্কতা হিসেবে ঐ তিন জনকে আইসোলেশনে রাখা হলেও শঙ্কামুক্ত মনে হওয়ায় পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। তিনি বলেন, ‘তাদের আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আরো কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় তাহলে আমরা তাদের নমুনা পরীক্ষা করব।’
চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর দেশের অন্য সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরের মতো মোংলাতেও বাড়তি সতর্কতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আইইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, এখন পর্যন্ত দেশে ১০৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। বিদেশ থেকে আসা অতিথিদের তথ্য দিতে ঢাকার হোটেলগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হোটেল তথ্য দেয়নি।
