ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কনে দেখার আগেই নবীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হবু বরসহ মাইক্রোবাসের ১০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। বিজয়নগরে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাইক্রোবাসের ছয় যাত্রী মারা গেছেন। এরা সিলেটে মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ও নবীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কনে দেখার আগেই মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় হবু বরসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল নবীগঞ্জ উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে এ ঘটনা ঘটে। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি এরশাদুল হক ভুঁইয়া জানান, বরিশাল বিমানবন্দর থানার ক্ষুদ্রকাটি গ্রামের আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মচারী আব্বাছ উদ্দিনের পরিবার নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় বসবাস করছেন। গতকাল ভোরে তার ছেলে ইমন খানের (২৬) বিয়ে উপলক্ষ্যে কনে দেখতে তারা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের উদ্দেশে একটি মাইক্রোবাসে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে ৭টায় তাদের বহনকারী গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৫৪৬২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সুমনা (৩৫) নামে এক নারী ও তার মেয়ে খাদিজা (৪) মারা যায়। নিহত অন্যরা হলেন—আব্বাছ উদ্দিন (৬০), তার ছেলে ইমন (২৬), ছোট ছেলে রাব্বি (২৪) এবং ইমরান আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন, মহসিন (৩০), রাজিব (২৮) ও আসমা। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, গতকাল ভোররাতে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত চার জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বিশ্বরোডের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস ও সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা লিমন পরিবহনের ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা ১০ যাত্রীর মধ্যে দগ্ধ ছয় জন নিহত হন। এরা হলেন—চালক সোহান (২০), হারুন মিয়া (৪০), শাকিল মিয়া (২৫), সাগর (২২), রিফাত (১৬) ও ইমন মিয়া (১৯)। আহতরা হলেন—শাহিন (৩০), বিজয় (২২), আবির (৩৫) ও জিসান (২৫)। এরা নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চৌপাড়ার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা। তারা মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেটে যাচ্ছিলেন। এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে উভয় পার্শ্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে ফের যান চলাচল শুরু হয়।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, সোনাগাজী উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুই বন্ধু মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এরা হলেন আজিজুল হক সাহেদ (২৮) ও জিয়া উদ্দিন বাবলু (২২)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দুজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরালগঞ্জ থানার বাসিন্দা। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মইন উদ্দিন এ তথ্য জানান।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-ময়মনিসংহ মহাসড়কের উপজেলার মেহেরাবাড়ীতে গতকাল ভোররাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তালাকোর্ট গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে আজিম উদ্দিন (২২) ও নেত্রকোনা জেলার ঠাকুরকোনা এলাকার মানিক রবিদাসের ছেলে রাজন (২৮)। ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উযায়ের আল-মাহমুদ আদনান জানান, ঢাকাগামী বিকল হয়ে থাকা একটি মাছভর্তি পিকআপের পেছনে একই দিক থেকে আসা অপর একটি মাছভর্তি পিকআপ ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সাভার থেকে ইত্তেফাক রিপোর্টার জানান, গতকাল ভোরে এক পুলিশ সদস্য আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নারায়ণগঞ্জ কর্মস্থলের উদ্দেশে যাবার পথে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে আকাশ নামে ঐ পুলিশ সদস্য নিহত হন। সাভার হাইওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ হেল বাকী এ তথ্য জানান। আকাশ আহম্মেদ (২২) ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার আব্দুল মজিদের ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ কার্যালয়ে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইলের নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা ফেরার পথে জামগড়া এলাকায় একটি রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল থেকে সড়কের ওপর পড়ে গেলে পেছনে থাকা মন্ডল এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-১৫৯১) পরিবহনের একটি বাস পিন্টুকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘাতক বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। পিন্টু (৪০) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কাজীর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি ডিশ অফিসে কাজ করতেন।
লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার লালমোহনে চান্দের গাড়ি উলটে ডোবায় পড়ে এক চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মঙ্গল সিকদার সড়কের চরকালাচাঁদ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চালকের নাম মানিক। তিনি লালমোহন পৌর এলাকার নয়ানী গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, আগৈলঝাড়ায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার সরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অভি সরদার (২২) গৌরনদীর কসবা গ্রামের আবু বক্কর সরদারের ছেলে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু ও এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের ভজনপুর ও জগদল-দেবনগর সড়কের জগদল বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের প্রধানগছ এলাকার মানিক হোসেনের ছেলে রাজিউল ইসলাম (৫) ও একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকার আনারুল ইসলামের মেয়ে ময়ুরী আক্তার (১৬)। সে স্থানীয় দেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
