মাশরাফিকে তামিম-লিটনের উপহার

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ২২:৪০

দেশের নানা জায়গাতে এই ক দিন বৃষ্টি হয়েছে। একদিন রাতে সামান্য একটু তর্জন-গর্জন ছাড়া সিলেটে এই ক দিন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। অবশেষে গতকাল বিকেলে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। প্রায় পৌনে তিন ঘন্টা খেলা বন্ধ রইলো। থেমে থেমে আকাশ যেনো কীসের এক শোক জানিয়ে কেঁদে গেলো।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ে শোক? না, মাশরাফি তো আরও খেলবেন। অধিনায়ক হিসেবে এটা শেষ ম্যাচ ছিলো। সে জন্য শোক নয়, উদযাপন করলো বাংলাদেশ। আর মাশরাফিকে এই ম্যাচটায় অসাধারণ উপহার দিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এই দুই ব্যাটসম্যানকে দলে রাখতে অনেক লড়াই করেছেন মাশরাফি। গতকাল তার অধিনায়কত্বের শেষ দিনে রেকর্ডের বন্যায় ম্যাচ সাজিয়ে রাখলেন তামিম-লিটন।

২৯২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড করলেন। সেই সাথে লিটন দাস বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ, ১৭৬ রানের ইনিংস খেললেন। আর তামিম ও লিটন বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি করলেন। এই সবকিছু মিলিয়ে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৪৩ ওভারে ৩২২ রান তুলে ফেললো।

বৃষ্টির কারণে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২। জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪২ রান করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে।

আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে দারুন সূচনা এনে দেন তামিম ও লিটন। দু জনে বাংলাদেশকে এনে দেন উদ্বোধনী জুটির আড়াই শয়ের বেশী রান। এই প্রথম বাংলাদেশ উদ্বোধনী জুটিতে আড়াইশ রান পার করলো। শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রান করে লিটন বিদায় নেওয়ায় জুটি ভাঙে ২৯২ রানে। এটা উদ্বোধনী জুটিতে বিশ্বের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান।

বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে এটা অবশ্যই সর্বোচ্চ রান। আগের সর্বোচ্চ ছিলো ১৯৯৯ সালে করা মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের ১৭০ রান। বাংলাদেশের যে কোনো উইকেট জুটিতে এটা সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পঞ্চম উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৪ ছিলো সর্বোচ্চ; সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ করেছিলেন সেই রেকর্ড।

এই ম্যাচে ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ভাঙলেন লিটন দাস। এক ম্যাচে আগেই দেশের পড়্গে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। কাল তাকে স্বাক্ষী রেখেই ১৭৬ রান করলেন লিটন। এক সময় মনে হচ্ছিলো দুই শ রান করে ফেলবেন তিনি। কিন্তু ফিরে যান। তার আগে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১৭৬ রান করে ফেরেন তিনি। লিটন আউট হওয়ার পর তামিমও আরও মারকুটে হয়ে ওঠেন। তিনি ১০৭ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের দুই ওপেনার বৃষ্টির পর একেবারে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। ৫৮ বলে ১৪০ রান তোলে তারা এই সময়ে।