প্রান্তিক ও দুর্বল মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে পারলেই তৃপ্তি পান সমপ্রতি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সদ্য বদলি হওয়া আলোচিত বিচারপতি এস মুরলীধর। তার মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গেলে একজন বিচারপতিকে দুর্বলের পক্ষে ঝুঁকে থাকতে হয়। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টের হলঘরে বিদায়ি সংবর্ধনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মুরলীধর বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কার ক্ষমতা বেশি, তা বিচার করতেই হবে। সমান ন্যায়বিচার করতে দুর্বলের দিকেই ঝুঁকে থাকতে হবে। গান্ধীর দুর্বলতমের পাশে দাঁড়ানো ও অম্বেদকারের সাংবিধানিক নৈতিকতার নীতি মেনে চলতে হবে। এর আগে বিচারপতি মুরলীধরকে অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনার সাক্ষী হয় দিল্লি হাইকোর্ট। কোনো বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনায় গান বা কবিতা ব্রাত্যই থাকে। প্রথা ভেঙে দিল্লি সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা প্রথমে ‘একলা চলো রে’ গাইলেন। তার পরে উর্দুতে শের শোনালেন, ‘ম্যায় আকেলা হি চলা থা জানিব-এ-মঞ্জিল মগর লোগ সাথ আতে গয়ে অউর কারবাঁ বনতা গয়া’। বিচারপতি মুরলীকে সম্মান জানাতে আইনজীবীরা বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের ‘কোহিনুর’-ই চলে যাচ্ছেন। বিদায় সংবর্ধনার আগে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সমস্ত বিচারপতিরা একত্রিত হয়ে তাকে সম্মান জানান।
বিচারপতি মুরলীধর বলেন, ৮০ বছর বয়সি কাউকে পেনশন পাইয়ে দিতে পারলে, মৃত বাস কন্ডাক্টরের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে পারলে বা নিয়মের ভুলে চাকরি যাওয়া সিআরপি জওয়ানকে তা ফিরিয়ে দিতে পারলেই তিনি বেশি তৃপ্তি পান। ভবিষ্যতেও তিনি প্রান্তিক দুর্বল মানুষের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি কলেজিয়াম থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে বদলির সুপারিশের কথা জানানো হয়। আমি আপত্তি জানাইনি। মজা করে বলেন, ‘বদলি করলেও আমাকে দেশের সেরা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির পদ থেকে কেউ সরাতে পারবে না।’
মুরলীধরের সংবর্ধনায় হাজির হন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ পি শাহ-ও। এই দুই বিচারপতির বেঞ্চই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন, সমকামিতা অপরাধ নয়। বিচারপতি মুরলীধর বলেন, সে দিন এজলাসের মধ্যেই যেভাবে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখনই বুঝেছিলাম কিছু অপরিবর্তনীয় ঘটনা ঘটছে।
দিল্লির সামপ্রতিক সহিংস ঘটনায় উসকানিমূলক বিবৃতি দেওয়ার জন্য বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি এস মুরলীধর। সে রাতেই কেন্দ্রীয় সরকার তাকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশ দেয়।
