বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েপড়া করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ০২১ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ১ শতাংশের সমান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকি বিবেচনায় এই ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৮০ লাখ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
করোনা ভাইরাসটির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে আসছে। মানুষের ভোগব্যয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা, পর্যটন, শিল্প উত্পাদনে বাধা তৈরি করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এডিবি সম্ভাব্য ক্ষতির একটি ধারণাগত হিসাব দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতি যদি ছয় মাসের বেশি বাধাগ্রস্ত হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষতির হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশের ব্যবসা, বাণিজ্য উত্পাদন ব্যবস্থায় ১১৪ কোটি ডলারের (প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা) বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষি ও খনি খাতে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার (৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা), হালকা ও ভারী শিল্প উত্পাদনে ৩৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার (৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা), হোটেল রেস্টুরেন্ট ও ব্যক্তিগত ব্যবসার ৫০ কোটি ৯০ লাখ ডলার (৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে ৮ লাখ ৯০ হাজার কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা করা হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে।
গতকাল প্রকাশিত ‘দ্য ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট অব দ্য কভিড-১৯ আউটব্রেক অন ডেভলপিং এশিয়া’ শিরোনামে এই প্রতিবেদনে তিন ধরনের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ, মধ্যম ও খারাপ পরিস্থিতে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৩৪৭ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে যা বিশ্ব জিডিপির শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত।
ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বিশ্বে স্বাভাবিক চলাচল সীমিত হয়ে যাচ্ছে। চীনের অর্থনীত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির জিডিপির শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বা ১০৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বা ২২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এছাড়া ভারতের জিডিপির শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ১ দশমিক ১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুইয়কি সাওয়াদা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কভিড-১৯ নিয়ে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্ষতির আকার নিরূপণে বিভিন্ন দিক থেকে হিসাব করা প্রয়োজন। ক্ষয়ক্ষতির এ ধরনের হিসাব দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের ধারণা পেতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে এর প্রভাবে মানবিক ও অর্থনীতির ক্ষতি মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
করোনা ভাইরাসটির প্রভাবে সারা বিশ্বের বাণিজ্য ও ভ্রমণ, বাণিজ্য, শিল্প উত্পাদনে বাধা তৈরি করছে। মানুষের স্বাস্থ্যগত প্রভাবের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার প্রভাবের দুই-তৃতীয়াংশই চীনকে ঘিরে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডয়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইত্তেফাককে বলেন, চীনের সঙ্গে যে দেশের বেশি বাণিজ্য তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি কম নয়।
