জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশে ‘অধিনায়ক’ মাশরাফির বিদায়

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ০০:৫৩

দেশের নানা জায়গাতে এই কদিন বৃষ্টি হয়েছে।

একদিন রাতে সামান্য একটু তর্জন-গর্জন ছাড়া সিলেটে এই কদিন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। অবশেষে গতকাল বিকালে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। প্রায় পৌনে ৩ ঘণ্টা খেলা বন্ধ রইল। থেমে থেমে আকাশ যেন কীসের এক শোক জানিয়ে কেঁদে গেল।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ে শোক?

না, মাশরাফি তো আরো খেলবেন। অধিনায়ক হিসেবে এটা শেষ ম্যাচ ছিল। সে জন্য শোক নয়, উদ্যাপন করল বাংলাদেশ। আর মাশরাফিকে এই ম্যাচটায় অসাধারণ উপহার দিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এই দুই ব্যাটসম্যানকে দলে রাখতে অনেক লড়াই করেছেন মাশরাফি। গতকাল তার অধিনায়কত্বের শেষ দিনে রেকর্ডের বন্যায় ম্যাচ সাজিয়ে রাখলেন তামিম-লিটন।

তাদের জোড়া সেঞ্চুরিতেই ‘অধিনায়ক’ মাশরাফির বিদায়ের ম্যাচটা জয়ের আবিরে রাঙাল বাংলাদেশ। গতকাল সিলেটে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ তে ধবলধোলাইও সম্পন্ন হলো।

নেতৃত্বের শেষ ম্যাচে বল হাতে ৬ ওভারে ৪৭ রানে ১ উইকেট নেন মাশরাফি।

গতকাল ২৯২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়লেন ওপেনাররা। লিটন দাস বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেললেন। তামিম খেললেন অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস। আর তামিম ও লিটন ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি করলেন। এই সবকিছু মিলিয়ে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৪৩ ওভারে ৩২২ রান তুলে ফেলল।

বৃষ্টির কারণে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২। জবাবে ৩৭.৩ ওভারে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা ৬১, মাধেভেরে ৪২, শন উইলিয়ামস ৩০, চাকাভা ৩৪ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সাইফউদ্দিন ৪টি, তাইজুল ২টি, মাশরাফি, আফিফ, মুস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নেন। 

টসে হেরে ব্যাট করা বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন তামিম ও লিটন। জিম্বাবুয়ের বোলারদের রাজ্যের হতাশা উপহার দিয়ে বিশাল জুটি গড়েন তারা। শেষ পর্যন্ত ৪১তম ওভারে লিটন বিদায় নেওয়ায় জুটি ভাঙে ২৯২ রানে। এটা উদ্বোধনী জুটিতে ওয়ানডের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান এবং ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে এটা অবশ্যই সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৯৯৯ সালে করা মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের ১৭০ রান। তামিম-লিটনের যুগলবন্দি যে কোনো উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৪ ছিল সর্বোচ্চ; সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ করেছিলেন সেই রেকর্ড।

এই ম্যাচে ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ভাঙলেন লিটন। এক ম্যাচে আগেই দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। কাল তাকে সাক্ষী রেখেই রেকর্ডটা নিজের করে নেন লিটন। এক সময় মনে হচ্ছিল ডাবল সেঞ্চুরিও হয়ে যাবে। কিন্তু ফিরে যান। তার আগে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১৭৬ রান করে ফেরেন তিনি। লিটন আউট হওয়ার পর তামিমও আরো মারকুটে হয়ে ওঠেন। তিনি ১০৭ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসের মাঝপথে নামে বৃষ্টি। বৃষ্টির পর বাংলাদেশের দুই ওপেনার রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। ৫৮ বলে ১৪০ রান তোলেন তারা এই সময়ে।