শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শামিল শিক্ষক-অভিভাবক

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৮

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর  স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উল্লোসিত অভিভাবকরাও। এ বছর পিইসি-ইবতেদায়িতে পাসের হার ৯৮, জেএসসিতে ৮৫ ও জেডিসিতে ৮৯ শতাংশ। এ উপলক্ষে রাজধানীর স্কুলগুলোতে আনন্দে মেতেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আনন্দে সামিল হয়েছেন স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকরা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ: ফল ঘোষণার ঘন্টাখানেক আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা মাঠে ভিড় জমিয়ে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ফল ঘোষণার পরপরই তাদের আনন্দ-উল্লাসে  ফেটে পড়তে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কমেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলে পিইসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৭৮৩ জন। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৩ জন।  জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৩ জন। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭১ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা বেগম বলেন, আগের তুলনায় এবার পিইসিতে জিপিএ-৫ কম হয়েছে। কারণ এবার অবজেকটিভ ছিল না।  গতবার জিপিএ-৫ ছিল শতকরা ৯৫ ভাগ। এবার তা ৮৫ দশমিক ৬০ ভাগ। তিনি বলেন, জেএসসিতেও একই অবস্থা। চতুর্থ বিষয় না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে আমাদের ফল ভালোই।

রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: স্কুলটিতে পিইসিতে ও জেএসসি’তে ফল সন্তোষজনক। উভয় ক্ষেত্রে শতভাগ পাসের পর জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪০ জন। যেখানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৯৮ জন। আর পিইসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৯ জন। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩০০ জন।  অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশফাক ইকবাল বলেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরই আমরা ভালো ফল করার চেষ্টা করি। আমরা ভবিষ্যতে এই চেষ্টাটাই জারি রাখবো।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: মতিঝিল আইডিয়ালে শতভাগ পাস করেছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ফল প্রকাশের পর খুদে শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠে। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও আনন্দে মাতেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০১৮ সালে স্কুলটিতে পিইসি পরীক্ষায়  দুই হাজার ৫০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই পাস করেছে। তার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৩১ শিক্ষার্থী। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুই হাজার ৭৩১ জন শিক্ষার্থী পিইসিতে অংশ নেয়। সে সময়ও শতভাগ পাস এসেছিল মতিঝিল আইডিয়ালের। কিন্তু তখন এবারের চেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেশি ছিল তাদের। দুই হাজার ৩৯৪ শিক্ষার্থী পেয়েছিল জিপিএ-৫। অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, পিইসি’র ফলে আমরা খুশি। তবে জিপিএ-৫ কমেছে হঠাত্ করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে।

রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ:  জেএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পরপরই আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পিইসিতে শতভাগ পাস করেছে শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের জিপিএ-৫ এর হার কমেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে স্কুলটিতে পিইসিতে মোট ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩২ জন শিক্ষার্থী। এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৭ সালে ৪০৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১৯৪ জন। ওই বছরও প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিলো।  প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাকসুদা বেগম বলেন, এবারও শতভাগ পাস করেছে। তবে নতুন প্রশ্নপত্রের কারণে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ: এ বছর প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখায়  প্রিপারেটরি কেজি স্কুল থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১১৩৭ জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উভয় মাধ্যমে পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৬ জন। জিপিএ-৫ এর হার ৭৮.৮০ শতাংশ। জেএসসিতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১১১১ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং উভয় মাধ্যমে পাসের হার শতভাগ। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৬ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৩৫.৬৪ শতাংশ। উত্তরা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল এম. কামালউদ্দিন ভূঁইয়া (অব.) বলেন, শিশুদের পরীক্ষায় সেরা ফল অর্জন আমাদের অভিজ্ঞতা ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফসল। শিশুবান্ধব পড়ার পরিবেশ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিলো বলেই আমরা প্রত্যাশা মতো ভালো ফল করতে পারছি। এ ধারা বজায় রেখেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ: শতভাগ পাসসহ পিইসি ৮৪৪ ও জেএসসি ৪৬১  জিপিএ-৫ পেয়েছে। ডেমরার এ প্রতিষ্ঠানটি ঈর্ষণীয় সাফল্যের ধারায় ২০১৮ সালেও পিইসি ও জেএসসি  পরীক্ষায় শতভাগ পাসসহ যথাক্রমে ৮৪৪ ও ৪৬১ জিপিএ -৫  অর্জন করেছে। স্কুলের নতুন শাখা ইংরেজি মাধ্যমের-২০১৮ সালেই প্রথমবারের মত পিইসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে ৪১ জন শিক্ষার্থীর সবাই  জিপিএ-৫  পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সমবেত অভিভাবক ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্মুখে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আলহাজ মাহফুজুর রহমান মোল্লা শ্যামল মনে করেন, সমন্বিত ও নিরবিচ্ছিন্ন চেষ্টাই  তাদের  এই সাফল্য এনে দিয়েছে।