দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্তমূলক কোনো পরিকল্পনা প্রণয়নকে কৌশলগত পরিকল্পনা বলে
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
মো.কবির হোসেন (সুজন), সিনিয়র প্রভাষক
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা।
প্রিয়,এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। পরীক্ষার খুবই সন্নিকটে। তাই তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও
ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয়পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি তোমাদের উপকারে আসবে।
উদ্দীপক: পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে বিদেশী কারিগরি সহায়তায় আগামী বছরের যে কোনো সময় এই প্রত্যাশিত সেতুর কাজ শেষ হবে। এই সেতুতে সড়ক ও রেলপথ দুটোই অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। ফলে দক্ষিণ বঙ্গের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নব দিগন্তের সূচনা হবে।
এটি উন্মুক্ত হলে এই অঞ্চলের মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম তিনটি সাশ্রয় হবে। এই সেতুর প্রাথমিক ডিজাইনে রেলপথ সংযোজন ছিল না। পরবর্তীতে ডিজাইন পরিবর্তন করে সেতুতে রেলপথ সংযোজন করা হয়। এটি একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
ক) সামগ্রিক পরিকল্পনা কী?
খ) পরিকল্পনার অঙ্গন বলতে কি বোঝায়?
গ) উপরের উদ্দীপকের প্রথম দিকের প্রত্যাশিত কাজটি কোন ধরণের প্রকৃতিগত পরিকল্পনা? আলোচনা কর।
ঘ) উদ্দীপকের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উল্লেখিত পরিকল্পনাটির সাথে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান-এই পরিকল্পনাটির মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: কোনো প্রতিষ্ঠানের সকল বিভাগ বা অঞ্চলের পরিকল্পনাকে একত্রিত করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে সামগ্রিক পরিকল্পনা বলে।
উদ্দীপকে খ নং প্রশ্নের উত্তর: যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে তাকে পরিকল্পনার পটভূমি বা সামগ্রিক পরিকল্পনা বলা হয়।
এইরূপ পটভূমি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরী করা হয়ে থাকে। এইরূপ অনুমানে যেসব সম্ভাবনাকে ধরে নেয়া হয় তাতে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা রাখা হয়। যে সকল সমস্যা ভবিষ্যতে হতে পারে বলে পূর্বানুমান করা হয় পরিকল্পনাতে সেগুলো কাটিয়ে উঠে লক্ষ্য অর্জনকে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে একার্থক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
যে পরিকল্পনা একটা মাত্র উদ্দেশ্য সাধন বা একবার ব্যবহারের জন্য তৈরী করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলা হয়।
উপরের উদ্দীপকে পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বলতে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে মনে করা হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে বিদেশী কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে এই পরিকল্পনাটি কাজ শেষ হবে বলে এই ধরণের পরিকল্পনাকে একার্থক পরিকল্পনা বলা হয়।
উদ্দীপকে ঘ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে কৌশলগত পরিকল্পনাও স্থায়ী পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্তমূলক কোনো পরিকল্পনা প্রণয়নকে কৌশলগত পরিকল্পনা বলে। যে পরিকল্পনা একবার গৃহীত হবার পর নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের আগ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় তাকে স্থায়ী পরিকল্পনা বলা হয়।
সাধারণভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীদের কর্তৃক চিন্তা ভাবনার সংযোগে প্রণীত হয়। এইরূপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নিচের স্তরে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। পদ্মা সেতুটি বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক ছোট ছোট পরিকল্পনা উচ্চস্তরের নির্বাহীদের পরামর্শে গ্রহণ করা হয়। তাই এটি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা। এই সেতুটি দৃশ্যমান অর্থাত্ এটি বাস্তবায়ন হবার পর অন্য আরেকটি পরিকল্পনা না নেয়ার আগ পর্যন্ত এটি ব্যবহার হবে তাই এটি স্থায়ী পরিকল্পনা। উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের সাথে দেশের উন্নয়ন নির্ভরশীল। তাই এটি বাস্তবায়নের জন্য অনেক সহায়ক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। তাছাড়া এই ধরনের পরিকল্পনার ফসল দীর্ঘদিন ভোগ করা যায়। তাই এই পদ্মা সেতু থেকে দীর্ঘদিন দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ তথা গোটা দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ফল ভোগ করবে। এই ধরনের সুবিধা স্থায়ীভাবে পাওয়া যায়।
