শিক্ষকসংকটে পাঠদান ব্যাহত

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ২১:৪৮

খড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শাহ্ আলম ভুঁইয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ঝলমলে রঙিন স্কুল। আছে ২০৭ জন ছাত্রছাত্রী। স্কুলটিতে প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম, বেঞ্চ, বোর্ড ইত্যাদি শিক্ষা উপকরণসহ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্যে এক চিলতে মাঠও রয়েছে। আছে একজন অফিস সহায়ক। শিক্ষকের অভাবে স্কুলটিতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের ১০ নম্বর খড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। জানা গেছে, স্কুলটিতে তিন জন সহকারী শিক্ষক থাকলেও সুফিয়া খাতুন নামের এক শিক্ষক এখন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আর অপর শিক্ষক রোবানা সুলতানা আছেন প্রশিক্ষণে।

সরজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, খুদে শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে দৌড়াদৌড়ি করছে। কেউ মাঠে, কেউ ক্লাসরুমে চিত্কার, হইহুল্লোড় করছে। ছাবিনা ইয়াছমিন নামের একজন সহকারী শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের সামলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একমাত্র শিক্ষক বর্তমানে স্কুলটিতে লেখাপড়ার দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, ধাপে ধাপে এই স্কুল থেকে শিক্ষকরা বদলি হয়ে গেছেন। তহিমনা আক্তার নামের একজন প্রধান শিক্ষক এ স্কুল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে অন্য উপজেলায় বদলি হয়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষক পদটিও শূন্য রয়েছে।

ছাবিনা ইয়াছমিন জানান, স্কুলটিতে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৫১ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৪৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩২ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন বিষয় একা কীভাবে সামলাচ্ছেন জানতে চাইলে শিক্ষক ছাবিনা ইয়াছমিন বলেন, ক্লাসে ক্লাসে দৌড়াদৌড়ি করতে করতেই সময় চলে যায়। কোনো কাজই ভালোভাবে করা সম্ভব হয় না। চাকরি নতুন হওয়ায় আমি বদলি হতে পারছি না।

নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী সিদ্দিক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে ঐ স্কুলের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। স্কুলের লেখাপড়া যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে জরুরি ভিত্তিতে ডেপুটেশনে আরো শিক্ষক ঐ স্কুলে দেওয়া হবে। শিক্ষক বদলি হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিধি মেনেই শিক্ষকরা বদলি হয়েছেন।