খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্প
এনামুল হক, খুলনা অফিস
দুই বছর ধরে আটকে রয়েছে খুলনা ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেমন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের অর্থপ্রাপ্তিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কাছ থেকে ছাড়পত্রের অভাবে (অনাপত্তিপত্র) এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেডিএ বলছে, প্রকল্পে জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ও নগর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা মানেনি ওয়াসা।
খুলনা ওয়াসা সূত্র জানায়, নগরীর বর্জ্য যাতে যত্রতত্র নদী-খালে ছড়িয়ে না পড়ে এবং পরিবেশ যাতে দূষণমুক্ত থাকে সে জন্য ওয়াসার পক্ষ থেকে পয়োনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য সরকার ১০টি পাম্প স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে ৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। যার মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ঐ বছরই জেলা প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু গত দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কেডিএর ছাড়পত্র (অনাপত্তিপত্র) না পাওয়ায় প্রকল্পের জন্য কোনো জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে জটিলতা।
এদিকে, কেডিএ ও ওয়াসার টানাপোড়েনের কারণে জেলা প্রশাসন নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে । অপরদিকে, ২০১৯ সালে খুলনা স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওয়াসার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর জুলাই মাসে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় খুলনা ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনা মহানগরীর ৬৫ শতাংশ হোল্ডিং থেকে ৯ কোটি লিটার স্যুয়ারেজ বর্জ্য পরিশোধিত হবে।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, দেশের কোন শহরে পরিকল্পিত সুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে মাথায় রেখে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর থেকে খুলনা ওয়াসা স্যুয়ারেজ মাস্টার প্লান পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করে। দ্রুততম সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্যুয়ারেজ মাস্টার প্লানের পাম্প স্টেশনের জমি অধিগ্রহণের জন্য ৯৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও পাইপলাইন স্থাপনের জন্য আলাদা দুটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাবনা পাশ ও অর্থ ছাড়ও হয়। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। তবে, কেডিএর অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খুলনা উন্নয় কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ বলেন, জলাধার সংরক্ষণ আইন অমান্য করে ওয়াসা জমি অধগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদন করিয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। এ ক্ষেত্রে কেডিএর মাস্টার প্ল্যানও মানা হয়নি। কেডিএ যে ১০টি স্থানে অনাপত্তিপত্র চেয়েছে তার মধ্যে নগরীর নিরালা, গল্লামারী, ইসলামী কলেজ পার্শ্ববর্তী এলাকা, করিমনগরের সোনাডাঙ্গা আউটার বাইপাস, লবণচরা স্লুইসগেট ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রস্তাবিত জলাভূমি, নদী নিকটবর্তী এবং যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় অন্যান্য স্থানে ভূমি অধিগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে কেডিএ। সরকারি প্রকল্প বলেই আইন অমান্য করে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার সুযোগ নেই।
