বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার দাকোপে চালনা বাজার ও পৌরশহরে কোনো পাবলিক টয়লেট (গণশৌচাগার) না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাজারের কয়েকশ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা অসংখ্য মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সীমাহীন। শৌচাগার না থাকায় বাধ্য হয়েই বিভিন্ন ভবনের গলিতে ও রাস্তার পাশে মলমূত্র ত্যাগ করছেন অনেকে। এতে পৌর শহর বা বাজারের সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, চালনা পৌর শহর ও বাজারে কোনো গণশৌচাগার না থাকায় বিভিন্ন সড়কের পাশে যেখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মলমূত্র। অনেক সময় গন্ধে পথচারীরা নাকে-মুখে রুমাল চেপে হাঁটছেন। চালনা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম সাহা, প্রসেন বিশ্বাস, বিপ্লব রায়, মিজানুর রহমান, সমারেশ জোদ্দার, গোবিন্দ সাহাসহ আরো অনেকে জানান, সকাল থেকে রাত অবধি তাদের দোকানেই বসে থাকতে হয়। শৌচাগার না থাকায় বেশির ভাগ সময় প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখতে হয়। কেবল না পেরে দোকান থেকে বের হন। এছাড়া টিউবওয়েলও না থাকায় হাত, পা, মুখ ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুব সমস্যা। উপজেলা সদর ও পৌর শহরে নানা কাজে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ আসে। বর্তমানে পৌর শহরের প্রধান সমস্যার মধ্যে অন্যতম এটি বলে তারা জানান। বাজারে আসা সাবিনা বেগম, শিবানী মণ্ডল, রূপা রায়, উর্বসী মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজন জানান, নারী ও শিশুদের জন্য গণশৌচাগার সমস্যা মারাত্মক। যে কারণে তারা বিভিন্ন কাজে পৌরশহর বা বাজারে আসার সময়ে নিরুপায় হয়ে বাড়ি থেকে পরিমাণের তুলনায় পানি কম খেয়ে আসেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখলে এবং প্রয়োজনের তুলনায় পানি কম খেলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়। এভাবে মানুষের শরীরে নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গণশৌচাগার নির্মাণের টেন্ডার হয়ে গেছে, কাজও শুরু হয়েছে। মোট ১২টি শৌচাগার ও ১৫টি ডাস্টবিন নির্মাণ হবে। ’
