নিজ ভেন্যুতে স্মরণীয় জয় মোহামেডানের

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ২১:৫৭

মোহামেডান ১ : ০ বসুন্ধরা কিংস

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল, কুমিল্লা থেকে

চেনাই গেল না মোহামেডানকে। তিন দিন আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরে যাওয়া মোহামেডান গতকাল তাদের নতুন ভেন্যু কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে।

এক-দুই জনের পারফরম্যান্স বিচার না করলে এক কথায় বসুন্ধরার বিপক্ষে মহামূল্যবান এক জয় নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে মোহামেডান। জয়ের নায়ক নাইজেরিয়ান উগুচুয়াকু ওবি মোনেকে। যদি ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার থাকতো, তাকেই দিতে হতো। এই স্ট্রাইকার গোল করেছেন, গোল করানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন এবং নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন।

মোহামেডান এবং বসুন্ধরার খেলায় দর্শক হয়েছে ৩-৪ হাজার। এরচেয়েও বেশি দর্শক ছিল কয়েক দিন আগে কাউন্সিলর ক্রিকেট ফাইনালে। তখন গেটে টিকিট ছিল না। কাল ফুটবল মাঠে ৩০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকতে হয়েছিল। ফুটবলের উত্সব, ফুটবল আমেজ নিতে শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ ছিল। পূর্ব গ্যালারিতে বসুন্ধরার সমর্থকরা দলের জার্সি গায়ে এবং পশ্চিম গ্যালারিতে কিছু দর্শক দেখা যায় মোহামেডানের সাদাকালো জার্সি গায়ে। কয়েকশ দর্শক ঢাকা হতে গিয়েছিলেন।

বসুন্ধরা হেরে ড্রেসিং রুমে বাক্রুদ্ধ। মোহামেডান ফুটবলাররা তখন ড্রেসিং রুম ছেড়ে নিজেদের টিমবাসে উঠে গিয়েছে। কিন্তু দর্শক ভিড়ে মোহামেডান বের হতে পারছিল না। ৮০র দশকে যেভাবে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম হতে বেরিয়ে দর্শক বিড়ম্বনায় পড়ত, কালকের খেলাটি সেই পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। টিমবাসের সামনে শত শত সমর্থক ঘিরে রেখেছে।

কে একজন বলছিলেন ৫ এপ্রিল মোহামেডান-পুলিশ খেলা আছে। কে শোনে কার কথা। দর্শক মোহামেডান ফুটবলারদের দেখার জন্য ব্যাকুল। বাদল রায়ের বাড়ি কুমিল্লায় তার প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়েই কি না এতো দর্শক। তবে খেলা শেষে মাঠে ঢুকে বাদল রায় সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কাউকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। কুমিল্লা তারই শহর। সেই শহরে বাদল রায়ের মোহামেডান লিগের ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছে বাড়তি উল্লাস তো থাকবেই।

মোহামেডান বিভিন্ন ভেন্যুতে খেললেও গতকালই নিজেদের ভেন্যুতে প্রথম ম্যাচ খেলে স্মরণীয় জয় তুলে নিল। পঞ্চম খেলায় মোহামেডানের তৃতীয় জয়। এর আগে আরামবাগ ও শেখ রাসেলের বিপক্ষে জিতেছে। দুই হার তিন জয়ে মোহামেডানের পয়েন্ট ৯। পাঁচ ম্যাচে বসুন্ধরার প্রথম হার, ড্র ছিল পুলিশের বিপক্ষে। পয়েন্ট ১০।    

বসুন্ধরা ঢাকায় ১১ মার্চ এএফসি কাপে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে খেলবে। শহিদ ধীরেন্দ্র নাথ স্টেডিয়ামের মাঠ ভাল নয়। তারপরও শুরু থেকেই মোহামেডানই বসুন্ধরার ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। বসুন্ধরার গোল লাইনের সামনে বল পেয়েও জালে জড়াতে পারেনি মালির সুলায়মান দিয়াবাতে, ইউসুফ সিফাতরা। শেষ পর্যন্ত উগুচুয়াকু ওবি মোনেকে মোহামেডানকে গোল এনে দিলেন, অধিনায়ক জাপানি মিডফিল্ডার উরু নাগাতার বলটা পেয়েও নাইজেরিয়ান ওবি মোনেকে দর্শনীয় শটে গোল করেন ১-০।

তবে প্রথমার্ধে সহকারী রেফারি ফেরদৌস এবং দ্বিতীয়ার্ধে রবিউলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। মোহামেডানের দাবি তাদের আক্রমণগুলো অহেতুক অফসাইড দেখিয়ে নষ্ট করা হয়েছে। দেয়নি পেনাল্টি। বসুন্ধরা অনেক সুযোগ তৈরি করলেও লাভ হয়নি। মাথা গরম করে দলের বিশ্বনাথ, সুশান্ত ত্রিপুরা মোহামেডানের ফুটবলারদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ালে উত্তেজনা ছড়ায়। মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শনলেন বললেন,‘ কোনো মেডিসিন নয়, আবাহনীর ম্যাচ ভুলে গিয়ে নামতে বলেছিলাম।’ বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন বললেন, ‘মোহামেডানকে হালকাভাবে নিইনি। আমরা ৩০-৩৫টা সুযোগ পেয়েছিলাম।’  

আজকের খেলা :

রহমতগঞ্জ ও উত্তর বারিধারা (৬টা ৩০ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।