কুমিল্লা থেকে স্পোর্টস রিপোর্টার
কুমিল্লায় ফুটবল ক্যাম্প করার প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। ক্যাম্পটি হয়েছিল তার নিহত হওয়ার আগের বছর, ১৯৭৪ সালে কুমিল্লার বার্ডে। সেই ক্যাম্পে ছিলেন মন্টু দাস। বয়স হয়েছে। খুব বেশি কিছু মনে করতেও পারেন না। তারপরও মোহামেডান-বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচ উপলক্ষ্যে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে সাবেকদের ভিড়।
মন্টু দাস তার স্মৃতি হাতরে তুলে আনলেন কুমিল্লার ফুটবল ঐতিহ্যের কথাগুলো। স্মৃতিবিভ্রমের কারণে সেই সময় নাম করতে না পারা আরেক ফুটবলার মাধব বণিকের সহায়তায় স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন। মাধব বণিকের স্মৃতি খুব প্রখর। একটানা বলে গেলেন, কারা কুমিল্লা থেকে গিয়ে ঢাকার ফুটবল মাতিয়েছেন। প্রণব কুমার দে ভানু, মদন দাস, দিলীপ, নীহার রঞ্জন দাস, তপন দাস, শিবলী নোমানী, আশরাফ চৌধুরী, বলাই দাস, গোলাম সারোয়ার টিপু, জাহাঙ্গীর আমান চৌধুরী, কায়কোবাদ, মন্টু দাস, বাতেন, মঞ্জু, ফরিদ, মুসলেম, সুজিত, বাদল রায়, রঞ্জিত সাহা, বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, নিজাম মজুমদার, শরিফ প্রমুখ ঢাকার ফুটবলে খেলেছেন, আরো আছে...।’
আবার যোগ দিলেন মন্টু দাস। বললেন, ১৯৭৪ সালে এখানে ফুটবল ক্যাম্প হয়েছিল। সিনিয়র দল যাবে রাশিয়ায় খেলতে। আর অনূর্ধ্ব—১৯ ফুটবল যাবে কুয়েতে। শেখ কামাল এই কুমিল্লায় ফুটবল ক্যাম্প করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেখ কামাল নিজেও কুমিল্লায় এসেছিলেন। আমরা রাশিয়ান কোচের অধীনে এক মাস অনুশীলন করেছিলাম। কোচের নাম মনে নেই আমার। কাজী সালাহউদ্দিন আমার রুমমেট ছিলেন।’
কুমিল্লার ফুটবল মাঠ ঐতিহ্যবাহী। মন্টু দাস জানালেন এই মাঠেই পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের ফুটবল ম্যাচ হয়েছিল। মন্টু দাসের একমাত্র গোলে পূর্ব পাকিস্তান হারিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানকে। ঢাকায় আগাখান গোল্ডকাপ ফুটবল খেলতে কুমিল্লা গিয়েছিল ইরান। প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল কুমিল্লা জেলা দলের বিপক্ষে। ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ইরান ছাড়াও রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ফুটবল দল খেলে গেছে পালাক্রমে।
কুমিল্লার ফুটবলের উজ্জ্বল মুখ বাদল রায়ের কথাও উঠল। সোহরাওয়ার্দী কাপ, শেরেবাংলা কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন বললেন, বাদল রায়ের আবিষ্কারক আব্দুল হক। তার আশেপাশে থাকা সব অন্যরা মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলেন। অন্যদেরও খেলাতে নিয়ে যেতেন।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সি আব্দুল হক, চোখে ভারী চশমা, মুখে দাঁত নেই বললেই চলে। নিজেও একসময় খেলতেন। ফুটবলের টানে বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে আসা আব্দুল হক বললেন, ‘বাদলের তিন গোল দেখে আমি তাকে নিয়েছিলাম। কুমিল্লায় বাদলের প্রথম দল ইয়ং সোসাইটি ক্লাব। সুতাকলে খেলেছেন। কুমিল্লা মোহামেডানে খেলেননি।’
